কোচিং সেন্টার
ঘর, বেঞ্চ আর পড়ানোর মানুষ — পুঁজি প্রায় শূন্য। কিন্তু পরীক্ষার সময় সরকারি নির্দেশে বছরে দুই-তিন মাস বন্ধ রাখতে হয়।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳২০,০০০ – ৳২,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৮ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৭ – ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ২ – ৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · সহজ
ব্যবসাটি কী
একটা ঘর, কয়েকটা বেঞ্চ, একটা বোর্ড আর পড়ানোর মানুষ — কোচিং সেন্টার শুরু করতে এর বেশি কিছু লাগে না। পুঁজি প্রায় শূন্য, তাই এই ব্যবসায় ঢোকা সহজ; কিন্তু টিকে থাকা সহজ নয়। চাহিদা আছে, আর তা কম নয়। শিক্ষা নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট শিক্ষক বা কোচিং সেন্টারে পড়ে, আর অভিভাবকের শিক্ষা খরচের সবচেয়ে বড় খাতই হলো প্রাইভেট শিক্ষকের বেতন ও গাইড বই। ২০২২ সালে একজন মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পেছনে পরিবারের বছরে খরচ ছিল ৳২৭,৩৪০ আর প্রাথমিকে ৳১৩,৮৮২; ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে সেই খরচ মাধ্যমিকে ৫১ শতাংশ আর প্রাথমিকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সমস্যা হলো আয়ের ধারাবাহিকতা। পরীক্ষার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ২০২৫ সালে এইচএসসির জন্য ২৬ জুন থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা বন্ধ ছিল; ২০২৪ সালে ২৯ জুন থেকে ৪৪ দিন, তারও আগে এসএসসির জন্য এক মাস। অর্থাৎ বছরে দুই থেকে তিন মাস তালা ঝোলে, অথচ ঘরভাড়া ওই মাসগুলোতেও দিতে হয়। আর শিক্ষার্থী আসে শিক্ষকের নামে, কোচিংয়ের নামে নয় — যিনি পড়ান তিনি চলে গেলে ব্যাচও তাঁর সঙ্গে চলে যায়।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৫,০০০ – ৳৮০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৩৮০ – ৳৩,১০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳১৯০ – ৳১,২৫০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৫০% – ৬০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৭ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ২ – ৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ১৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ২ – ৬ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- বেঞ্চ ও টেবিল, হোয়াইট বোর্ড বা ব্ল্যাক বোর্ড, মার্কার বা চক, পাখা ও আলো, হাজিরা খাতা আর পরীক্ষার কাগজ ছাপানোর ব্যবস্থা। সাদা কাগজের দর টিসিবির হিসাবে দিস্তাপ্রতি ৳৩৪–৪০।যন্ত্রপাতি
- নোট, প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্টের কাগজ। গবেষণা বলছে প্রাথমিকের ৯২ ও মাধ্যমিকের ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী গাইড বইয়ের উপর নির্ভর করে, তাই নিজের নোট থাকাটা আলাদা সুবিধা।প্রাথমিক মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।লাইসেন্স
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বন্ধের নির্দেশ মানা — পাবলিক পরীক্ষার সময় দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হয়। ২০২৫ সালে এইচএসসির জন্য ২৬ জুন থেকে ১৫ আগস্ট, ২০২৪ সালে ২৯ জুন থেকে ৪৪ দিন, এসএসসির জন্য এক মাস। এটি কোনো ফি নয়, কিন্তু আয়ের উপর সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণ।লাইসেন্স
- বিষয়ের উপর দখল এবং ক্লাসে বোঝানোর ক্ষমতা। এখানে শিক্ষার্থী আসে শিক্ষকের নামে, আর ফল খারাপ হলে পরের মাসেই ব্যাচ ফাঁকা হয়ে যায়।দক্ষতা
- স্কুল বা কলেজের হাঁটা দূরত্বে একটি বা দুটি ঘর, বসার জায়গা ও বাতাস চলাচলসহ। ভাড়ার অগ্রিমই এখানে সবচেয়ে বড় এককালীন খরচ, তবে তার অঙ্ক এলাকাভেদে আলাদা এবং এখানে যাচাই করা যায়নি।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1ঠিক করুন কোন শ্রেণি ও কোন বিষয় পড়াবেন। সব শ্রেণির সব বিষয় নিতে গেলে কোনোটিতেই নাম হয় না, আর নামই এখানে একমাত্র বিজ্ঞাপন।
- 2স্কুল বা কলেজের হাঁটা দূরত্বে ঘর নিন। শিক্ষার্থীরা স্কুলের আগে বা পরে আসে, তাই দূরত্বই ব্যাচের আকার ঠিক করে দেয়।
- 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। শুধু কোচিংয়ের জন্য আলাদা কোনো লাইসেন্স আছে কি না, তা নিজের উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে জেনে নিন।
- 4বেঞ্চ, বোর্ড, পাখা আর আলো বসান। শিক্ষার্থী যদি বসতে না পারে বা লেখা না দেখে, প্রথম মাসেই ব্যাচ ভেঙে যায়।
- 5ফি কত আর কবে দিতে হবে, লিখে দেয়ালে টাঙান। মাসের প্রথম সপ্তাহে ফি নিলে বকেয়া জমে না; মাস শেষে নিলে ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর টাকা আর ওঠে না।
- 6প্রতিদিন হাজিরা নিন এবং কে কত দিন আসছে না তা দেখুন। শিক্ষার্থী চুপচাপ ছেড়ে দেয়, বলে যায় না — হাজিরার খাতাই আগে খবর দেয়।
- 7প্রতি মাসে পরীক্ষা নিন আর ফল অভিভাবককে দেখান। এই ব্যবসার প্রচার অভিভাবকের মুখে মুখে হয়, আর ফলই তাঁদের কথা বলায়।
- 8পরীক্ষার মৌসুমের বন্ধ ধরে হিসাব করুন। ২০২৫ সালে এইচএসসির জন্য ২৬ জুন থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সব কোচিং বন্ধ ছিল, ২০২৪ সালে ২৯ জুন থেকে ৪৪ দিন। ওই মাসগুলোর ভাড়া আগেই সরিয়ে রাখুন।
- 9শিক্ষক নিলে ভাগাভাগির নিয়ম আগে ঠিক করুন। শিক্ষার্থী শিক্ষকের নামে আসে, তাই শিক্ষক চলে গেলে ব্যাচও তাঁর সঙ্গে যায়।
- 10স্কুলের নিজের শিক্ষার্থীদের পড়ানো নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা আছে, তা মেনে চলুন। স্কুলগুলো নিজেরাই শিক্ষকদের কোচিং ও প্রাইভেট বন্ধ করতে নির্দেশ দিচ্ছে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুকম
- মার্চকম
- এপ্রিস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাকম
- আগকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বড় শহর, নামী স্কুল-কলেজ অনেক, আর অভিভাবকের খরচ করার সামর্থ্যও আছে।
- খুব উপযোগীঢাকা · স্কুল-কলেজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি আর ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির কেন্দ্রও এখানেই; তবে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে কড়া।
- খুব উপযোগীরাজশাহী · শিক্ষার শহর হিসেবে পরিচিত; বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ঘিরে ভর্তি কোচিংয়ের বড় বাজার।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরাঞ্চলের শহরকেন্দ্র, স্কুল-কলেজ ও কোচিং দুটোই ঘন।
- সম্ভবকুমিল্লা · জেলা শহরে নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আর প্রবাসী পরিবারের ফি দেওয়ার সামর্থ্যও বেশি।
- সম্ভবময়মনসিংহ · পুরোনো শিক্ষাকেন্দ্র; আশপাশের উপজেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা শহরে এসে পড়ে।
- সম্ভবরংপুর · বিভাগীয় শহরে কলেজ ও স্কুলের ভিড় বেশি, তবে অভিভাবকের ফি দেওয়ার সামর্থ্য তুলনামূলক কম।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্য প্রাইভেট ও কোচিংয়ে খরচ করার প্রবণতা বেশি।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: পাবলিক পরীক্ষার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়, আর সেটা কয়েক দিনের ব্যাপার নয়। ২০২৫ সালে এইচএসসির জন্য ২৬ জুন থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত — প্রায় সাত সপ্তাহ। ২০২৪ সালে ২৯ জুন থেকে ৪৪ দিন, এসএসসির জন্য আলাদা এক মাস, আর ডিসেম্বরের শেষে আরও ২২ দিন। বছরে দুই থেকে তিন মাস আয় বন্ধ, অথচ ঘরভাড়া ওই মাসেও দিতে হয়। এই বন্ধ আগে থেকে জানা যায় না, ঘোষণা আসে কয়েক দিন আগে।
- বেশিনির্ভরশীলতা: কোচিং সেন্টার আসলে একজন মানুষ। অভিভাবক খোঁজ নেন কে পড়াচ্ছেন, সাইনবোর্ডে কী লেখা তা নিয়ে নয়। ভালো শিক্ষক পাশের গলিতে নিজের কোচিং খুললে তাঁর ব্যাচের প্রায় পুরোটাই তাঁর সঙ্গে চলে যায়, আর নতুন শিক্ষক এনে সেই জায়গা ভরাতে অন্তত এক শিক্ষাবর্ষ লাগে।
- বেশিচাহিদা: শিক্ষার্থী ধরে রাখাই আসল কাজ। তারা আসে পরীক্ষার আগে, আর পরীক্ষা শেষ হলে চুপচাপ ছেড়ে দেয়; পরের ব্যাচ নতুন করে জোগাড় করতে হয়। চাহিদা কম নয় — গবেষণা বলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট বা কোচিংয়ে পড়ে — কিন্তু কে কোথায় পড়বে তা প্রতি বছর বদলায়। কত শতাংশ শিক্ষার্থী পরের বছরও থেকে যায়, তার কোনো প্রকাশিত হিসাব পাওয়া যায়নি।
- মাঝারিচলতি মূলধন: পুঁজি কম বলে ঝুঁকিও কম মনে হয়, কিন্তু ঘরভাড়ার অগ্রিমটাই এখানে আটকে থাকা টাকা, আর সেটা ফেরত পাওয়া সহজ নয়। ব্যাচ না ভরলে বা বন্ধের মাস এসে পড়লে ওই ভাড়াই প্রতি মাসে গুনতে হয়, আর কয়েক মাস ফাঁকা গেলে বেশির ভাগ ছোট কোচিং বন্ধ হয়ে যায়।
- মাঝারিঅন্যান্য: কোচিং নিয়ে নিয়ম ক্রমেই কড়া হচ্ছে। স্কুলগুলো নিজেদের শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোচিং ও প্রাইভেট বন্ধ করতে নির্দেশ দিচ্ছে, আর ২৪ আগস্ট ২০২৬-এ বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের বাণিজ্যিক কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যিনি চাকরির পাশাপাশি কোচিং চালাচ্ছেন, তাঁর ক্ষেত্রে এই নিয়ম যেকোনো দিন ব্যবসাটাই বন্ধ করে দিতে পারে।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
বিউটি পার্লার
চুল, ত্বক ও সাজের সেবা। ঢাকায় বাসায় গিয়ে করা ফেসিয়াল শুরু ৳৮২০, পার্টি মেকওভার ৳২,৩৫০–২,৯৫০। বাসায় শুরু করলে পুঁজি কম, দোকান নিলে অনেক বেশি।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৪৫ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাঘরে বসে টেইলারিং
একটি মেশিন দিয়ে পাড়ার অর্ডার। ঈদের আগের দুই মাসে কাজ তিনগুণ হয়।
- পুঁজি
- ৳২৫ হাজার – ৳৪০ হাজার
- জনবল
- ১ জন
- প্রথম আয়
- ১৪ – ২৮ দিন
লন্ড্রি ও ড্রাই ক্লিনিং
কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে ফেরত দেওয়ার দোকান। মফস্বলে কাপড়প্রতি ৳১০, দিনে ১০০ কাপড়ে আয় ৳১,০০০ — তবে লোডশেডিং হলেই তা ৳৩০০–৪০০-এ নেমে আসে।
- পুঁজি
- ৳২৫ হাজার – ৳২.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
সেলুন ও চুল কাটার দোকান
চেয়ারের সংখ্যা, দিনের খদ্দের আর ভাড়া — এই তিনটাই সব ঠিক করে। ঢাকায় চুল কাটা ৳১২০, শেভ ৳৮০–১৩০, আর শেভে মালের খরচ একটা ব্লেড, ৳৬–২৩।
- পুঁজি
- ৳২৫ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ১ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
