মুদি দোকান
পাড়ার প্রতিদিনের জিনিস বিক্রির দোকান। কেজিতে লাভ কয়েক টাকা, তাই আয় নির্ভর করে পরিমাণে — আর দোকান বন্ধ হয় বাকির টাকা আটকে গিয়ে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳৮০,০০০ – ৳৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১০ – ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ৬ – ১০ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · সহজ
ব্যবসাটি কী
চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মসলা আর সাবান-শ্যাম্পু — পাড়ার মানুষের প্রতিদিনের জিনিস বিক্রির দোকান। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ এই ব্যবসাটাই প্রথমে শুরু করেন, আর সবচেয়ে কম মানুষ জানেন লাভটা আসলে কত। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় খুচরা দর ছিল মোটা চাল ৳৫০–৫৫, সরু চাল ৳৭০–৮৫, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৳১৮৬–১৯৫, মশুর ডাল (বড় দানা) ৳৯০–১০০, চিনি ৳১১০–১১৫ আর প্যাকেট লবণ ৳৪০–৪২। মুদি দোকানে লাভ হয় প্রতি কেজিতে কয়েক টাকা, তাই টাকা আসে পরিমাণ থেকে — দিনে কত কেজি বিক্রি হলো তা থেকে। এই ব্যবসার আসল খেলাটা দামের ওঠানামায়। এক বছরে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ, প্যাকেট ময়দা ১৪.৩ শতাংশ আর আলু ২২.২ শতাংশ; অথচ দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩০ শতাংশ। যে দোকানদার আগের দামে বস্তা কিনে রেখেছিলেন, দাম বাড়লে তিনি বাড়তি লাভ পান; আর দাম পড়লে সেই একই বস্তায় তার লোকসান হয়। দ্বিতীয় খেলাটা বাকির। পাড়ার দোকানে বাকি না দিলে খদ্দের থাকে না, আর বাকি দিলে টাকা মাসের শেষে আসে — কিছু আসেই না। দোকানে মাল ভরা থাকে অথচ হাতে টাকা থাকে না, মুদি দোকান বন্ধ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটাই।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৭০,০০০ – ৳৪,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳২৫ – ৳১৯৫ / কেজি | সরকারি সূত্র | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২৪ – ৳৯৯৫ / কেজি | সরকারি সূত্র | |
| মোট লাভের হার | ০% – ১২% | সরকারি সূত্র | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১০ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৬ – ১০ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ১% – ৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৮০ – ৪০০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- তাক ও কাচের শোকেস, ডিজিটাল স্কেল বা দাঁড়িপাল্লা, তেল মাপার মগ ও ড্রাম, ঠোঙা ও পলিথিন, ক্যাশবাক্স, আর বাকির খাতা।যন্ত্রপাতি
- প্রথম মাল — চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, আটা-ময়দা, পেঁয়াজ-রসুন-আদা, মসলা, সাবান-শ্যাম্পু, বিস্কুট ও চা। পুঁজির সবচেয়ে বড় অংশ এখানেই যায়।প্রাথমিক মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, এর সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু হয়, প্রতি বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- খাদ্য বিক্রির নিবন্ধন — বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। খাদ্য নিরাপদতা (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নতুন নিবন্ধন ৳১,০০০ ও নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ ৩ বছর। প্রবিধানমালায় খুচরা মুদি দোকানের নাম আলাদা করে নেই, তাই নিজের দোকান এর আওতায় পড়ে কি না তা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিস থেকে জেনে নিন।লাইসেন্স
- কেনা দর মনে রাখা, মাপে ঠিক থাকা, আর কাকে কত টাকা বাকি দেওয়া যায় তা বুঝতে পারা। শেষেরটা না পারলে দোকান টেকে না।দক্ষতা
- পাইকারি বাজার বা আড়ত, চাল ও তেলের ডিলার, আর কোম্পানির ডিএসআর — প্যাকেট পণ্য তারাই দোকানে পৌঁছে দেয়।সরবরাহকারী
- হাঁটার দূরত্বে দোকান — গলির মুখ, বাজারের পাশ বা মেস-বস্তির লাগোয়া। মেঝে শুকনো হতে হবে আর চালের বস্তা মেঝেতে সরাসরি রাখা যাবে না।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1জায়গা দেখুন। মুদি দোকান চলে হাঁটার দূরত্বে — গলির মুখে, বাজারের পাশে বা মেস-বস্তির লাগোয়া। কাছাকাছি আর কয়টা মুদি দোকান আছে, আগে গুনে দেখুন।
- 2সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, আর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে হয়ে যায়।
- 3দোকান সাজান — তাক, কাচের শোকেস, দাঁড়িপাল্লা বা ডিজিটাল স্কেল, তেলের ড্রাম আর চালের বস্তা রাখার উঁচু জায়গা যাতে মেঝের স্যাঁতসেঁতে ভাব না লাগে।
- 4পাইকারি বাজার ঠিক করুন আর প্রতিটা পণ্যের কেনা দর খাতায় লিখে রাখুন। কেনা দর না লিখলে কোন পণ্যে লাভ আর কোনটায় লোকসান, তা কোনো দিন বোঝা যাবে না।
- 5প্রথমে কম পণ্য রাখুন কিন্তু বেশি করে রাখুন — চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, আটা, পেঁয়াজ, আলু, মসলা আর সাবান। পাড়ার বিক্রির বড় অংশ এই কয়টা জিনিসেই।
- 6কোম্পানির ডিএসআর বা ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন — বিস্কুট, সাবান, শ্যাম্পু, চা ও নুডলসের মতো প্যাকেট পণ্য তারাই দোকানে পৌঁছে দেয় আর মাঝে মাঝে বাকিতেও দেয়।
- 7প্রতিদিন সকালে পাইকারি দর জেনে নিন। বিশেষ করে তেল, চাল, চিনি আর পেঁয়াজ — এই চারটার দাম নড়ে সবচেয়ে বেশি, আর এখানেই লাভ-লোকসান ঠিক হয়।
- 8বাকির খাতা আলাদা রাখুন আর প্রতি সপ্তাহে যোগ করুন। কার কত টাকা বাকি আর কত দিন ধরে, দুটোই লিখুন — সংখ্যাটা বড় হয়ে গেলে নতুন মাল তোলার টাকা আর থাকবে না।
- 9মাসে একবার তাক খালি করে দেখুন কোন জিনিস পড়ে আছে। যে মাল তিন মাসে বিক্রি হয়নি, সেটা টাকা আটকে রেখেছে — কম দামে ছেড়ে দিয়ে সেই টাকা চলতি মালে লাগান।
- 10রোজার আগের মাসে বাড়তি মাল তুলুন — চিনি, ছোলা, খেজুর, ডাল আর তেল। বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রি ওই এক মাসেই হয়।
- 11মাস শেষে তিনটা সংখ্যা মেলান — কত টাকার মাল কিনলেন, কত টাকা বিক্রি হলো, আর বাকির খাতায় কত টাকা বাড়ল। তিন নম্বরটা বাড়তে থাকলে দোকান লাভে চললেও টাকা ফুরিয়ে যাবে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাস্বাভাবিক
- আগস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দর ও কারখানার শ্রমিক এলাকা; খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার কাছে থাকায় দর ভালো পাওয়া যায়।
- খুব উপযোগীঢাকা · ভাড়াটে, মেস ও বস্তির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, তাই ছোট জায়গাতেও প্রতিদিনের বিক্রি বেশি; তবে দোকান ভাড়াও সবচেয়ে চড়া।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক কারখানার শ্রমিক পাড়ায় প্রতিদিনের কেনাকাটা, আর বেতনের দিনে বাকির টাকা একসঙ্গে ওঠে।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · কারখানা ও ঘন বসতি; পাইকারি বাজার কাছে হওয়ায় মাল তোলার খরচ কম।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বড় পাইকারি কেন্দ্র; মাল কাছেই পাওয়া যায় বলে পরিবহন খরচ কম।
- সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কের পাশের বাজার আর প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা — দুটোই বিক্রি ধরে রাখে।
- সম্ভবখুলনা · শহর ও শিল্প এলাকার নিয়মিত চাহিদা; তবে বিক্রির অঙ্ক ঢাকার চেয়ে ছোট।
- সম্ভবময়মনসিংহ · ছাত্র ও মেসের ঘনত্ব বেশি; মাসের শুরুতে বিক্রি বাড়ে আর শেষে বাকি বাড়ে।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বেশি, বাকির ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
- কম উপযোগীকুড়িগ্রাম · ক্রয়ক্ষমতা কম আর বাকির চাপ বেশি; ফসল ওঠার আগে খাতার টাকা মাসের পর মাস আটকে থাকে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিবাকিতে বিক্রি: বাকিই মুদি দোকানের সবচেয়ে বড় ঘাতক। পাড়ার দোকানে বাকি না দিলে খদ্দের পাশের দোকানে চলে যায়, আর বাকি দিলে টাকা আসে বেতনের দিনে — কিছু আসেই না। বাকির খাতায় টাকা বাড়তে বাড়তে এমন হয় যে তাক ভর্তি মাল থাকে অথচ নতুন বস্তা কেনার নগদ থাকে না। খাতায় লাভ দেখা যায়, হাতে টাকা থাকে না।
- বেশিচলতি মূলধন: দামের ওঠানামাই দোকানদারের জুয়া। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর টিসিবি হিসাবে এক বছরে খোলা সয়াবিন তেল বেড়েছে ১১.৪%, প্যাকেট ময়দা ১৪.৩% আর আলু ২২.২%; আবার দেশি পেঁয়াজ কমেছে ৩০%। যে দোকানদার পেঁয়াজের বস্তা আগের দামে কিনে রেখেছিলেন, তার ওই বস্তায় সরাসরি লোকসান — অথচ মাল বিক্রি না করে উপায় নেই।
- মাঝারিচাহিদা: এক গলিতে নতুন আরেকটা মুদি দোকান বসলেই বিক্রি ভাগ হয়ে যায়, অথচ দোকান ভাড়া আর মালের টাকা কমে না। দোকান বদলানোর খরচ খদ্দেরের প্রায় শূন্য — দশ কদম হাঁটলেই হলো।
- মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: ভ্রাম্যমাণ আদালত মাপে কম দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখা বা দাম তালিকা না টাঙানোর জন্য জরিমানা করে। খোলা তেল ও মসলার মান নিয়েও অভিযান হয়। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না থাকলে জরিমানার অঙ্ক আরও বাড়ে।
- মাঝারিনষ্ট হওয়া: চাল-ডালে পোকা ধরা, বস্তা ইঁদুরে কাটা আর বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে বস্তা রেখে মাল নষ্ট হওয়া — এগুলো ছোট ছোট ক্ষতি, কিন্তু কেজিতে কয়েক টাকা লাভের ব্যবসায় কয়েক বস্তা নষ্ট হলে মাসের লাভ চলে যায়।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি, মোট লাভের হার, বিক্রয় মূল্য, অপচয় ও ক্ষতির হার · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: মোট লাভের হার, পরিবর্তনশীল খরচ · ঢাকা মহানগর
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাঘাট থেকে শহরে তাজা মাছ
ভোরে ঘাট থেকে কেনা, বরফে ঢেকে দুপুরের আগে শহরের দোকানে।
- পুঁজি
- ৳৮০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৩ – ৭ দিন
পেঁয়াজ ও রসুন মজুদ ব্যবসা
মৌসুমে সস্তায় কিনে গুদামে রেখে দাম বাড়লে বিক্রি। কিন্তু দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫–৩০ শতাংশই পচে যায়, আর এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩০ শতাংশ।
- পুঁজি
- ৳৭০ হাজার – ৳৪.৭ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ২৫০ দিন
সুপারি ব্যবসা
গৃহস্থের কাছ থেকে সুপারি কিনে হাটে বেচা, বা ভিজিয়ে-শুকিয়ে রেখে পরে বেচা। লক্ষ্মীপুরে অক্টোবর ২০২৫-এ কাউন ৳২,৫০০–২,৮০০, পোন ৳১৫০–২৫০।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ১ – ২৪০ দিন
কাপড় ও বুটিক দোকান
থান কাপড় ও বানানো পোশাকের দোকান। ঢাকায় সুতি কাপড় গজপ্রতি ৳৩০০–৭০০, আর বছরের বিক্রির বড় অংশ ওঠে রোজার শেষ দশ দিনে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৮ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
