মূল অংশে যান
  • আমাদের তথ্য কপিরাইট সংরক্ষিত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

মাশরুম চাষ

ঘরের ভেতর তাকে স্পন প্যাকেট বসিয়ে ২৫–৩০ দিনে ফলন। খরচ ৳৮০–৯০ কেজি, বিক্রি ৳২৫০–৩০০ — কিন্তু ঢাকার বাইরে ক্রেতা খুঁজে পাওয়াই আসল কাজ।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
শুরুর পুঁজি
৳২৫,০০০ – ৳৫,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম বিক্রি
২৫ – ৪৫ দিন
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
খরচ উঠবে
৩ – ১১ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি কী

খড় বা কাঠের গুঁড়া ভরা স্পন প্যাকেট তাকের উপর সাজিয়ে রাখা হয়, দিনে দুবার পানি ছিটানো হয়, আর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে প্যাকেট ফুঁড়ে মাশরুম বেরিয়ে আসে। জমি লাগে না বললেই চলে — নোয়াখালীর এক চাষি দেড় শতক জায়গায় আধাপাকা ঘর তুলে সাড়ে চার হাজার প্যাকেট বসিয়েছেন। হিসাবটাও ভালো দেখায়। নারায়ণগঞ্জের বন্দরের চাষি মো. হাসিব বলেছেন, এক কেজি কাঁচা মাশরুম উৎপাদনে খরচ ৳৮০–৯০ আর বিক্রি হয় ৳২৫০–৩০০ কেজি; এক কেজির স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় এক কেজি মাশরুম হয়; শুকনো মাশরুম ৳১,০০০–১,৫০০ কেজি। সরকারও পাশে আছে — সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট চাষ, স্পন তৈরি, মাদার কালচার আর বিপণন শেখায়। কিন্তু সত্যি কথাটা হলো, ঢাকার বাইরে বাজার খুবই পাতলা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে নোয়াখালীর এক চাষি স্পষ্ট বলেছেন, এই অঞ্চলের মানুষ এখনো মাশরুম খেতে অভ্যস্ত নয়, তাই বাজারই গড়ে ওঠেনি। মাশরুম দুই-তিন দিনের জিনিস, ফ্রিজ ছাড়া রাখা যায় না। তাই প্রশ্নটা 'কত ফলবে' নয় — প্রশ্নটা হলো 'কে কিনবে'। শহরের সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট আর ফেসবুকের নিয়মিত খদ্দের — এই তিনটার একটাও হাতে না থাকলে প্যাকেট বসানোর আগেই থামা ভালো।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

বিষয়পরিসরসূত্রসংশোধন দিন
মাসিক চলতি মূলধন৳২০,০০০ – ৳১,৮০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳২৫০ – ৳৩০০ / কেজিঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
পরিবর্তনশীল খরচ৳৮০ – ৳৯০ / কেজিঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
মোট লাভের হার৬৪% – ৭৩%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়২৫ – ৪৫ দিনঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
খরচ উঠে আসার সময়৩ – ১১ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৩০ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১০% – ২৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা২ – ১০অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত

শুরু করতে যা লাগবে

  • বাঁশ বা লোহার তাক, স্প্রে মেশিন, থার্মোমিটার ও হাইগ্রোমিটার, ব্লেড, আর শুকানোর ড্রায়ার বা রোদে শুকানোর চাটাই। ফ্রিজ থাকলে কাঁচা মাশরুম দু-এক দিন বেশি টেকে।যন্ত্রপাতি
  • খড় বা কাঠের গুঁড়া, পলিথিন ব্যাগ, তুলা ও রাবার ব্যান্ড — নিজে স্পন প্যাকেট বানালে এগুলোই মূল কাঁচামাল।প্রাথমিক মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কর্মদিবসে দেওয়া হয়। সুপারশপ বা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করতে হলে লাইসেন্স লাগবেই।লাইসেন্স
  • শুকিয়ে বা গুঁড়ো করে প্যাকেটে ভরে বিক্রি করলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন লাগে — নতুন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর। শুধু কাঁচা মাশরুম বিক্রিতে এটি প্রযোজ্য নয়।লাইসেন্স
  • প্রশিক্ষণ ছাড়া শুরু করলে ছাতা পড়ে প্যাকেট নষ্ট হয়। সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট প্রতি কর্মদিবসে মাশরুম অবহিতকরণ ও কার্যক্রম প্রদর্শনের অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেয়।দক্ষতা
  • স্পন ও মাদার কালচার — সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে পিওর কালচার, মাস্টার মাদার কালচার ও বাণিজ্যিক স্পন সংগ্রহে সহায়তা পাওয়া যায়। বেসরকারি স্পন ল্যাবের প্যাকেটের দর প্রায় ৳৪০।সরবরাহকারী
  • ছায়াযুক্ত, আর্দ্র ও বাতাস চলাচলের ঘর। দেড় শতক জায়গায় আধাপাকা ঘরে সাড়ে চার হাজার প্যাকেট রাখা যায়, তাই জমি প্রায় লাগেই না।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1প্যাকেট বসানোর আগে ক্রেতা ঠিক করুন। শহরের সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট বা নিয়মিত খদ্দের — অন্তত একটা হাতে না থাকলে শুরু করবেন না।
  2. 2সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে বা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে প্রশিক্ষণ নিন। চাষ, স্পন তৈরি ও বিপণন — তিনটাই ওখানে শেখানো হয়।
  3. 3ঘর ঠিক করুন — ছায়াযুক্ত, ভেজা-ভেজা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাসহ। দেড় শতক জায়গায় আধাপাকা ঘরেই সাড়ে চার হাজার প্যাকেট ধরে।
  4. 4বাঁশ বা লোহার তাক বানান যাতে প্যাকেটগুলো স্তরে স্তরে রাখা যায়। মেঝেতে রাখলে জায়গা নষ্ট হয় আর পোকা ধরে।
  5. 5প্রথমে ৩০০–৫০০ প্যাকেট দিয়ে শুরু করুন। কত ফলন এল আর কতটা বিক্রি হলো — দুটোই দেখে তারপর বাড়ান।
  6. 6প্রতিদিন দুবার পানি ছিটান আর ঘরের তাপ-আর্দ্রতা খেয়াল রাখুন। গরম বেড়ে গেলে ফলন কমে যায়, আর সেটাই গ্রীষ্মে হয়।
  7. 7কোনো প্যাকেটে সবুজ বা কালো ছাতা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলুন। একটা নষ্ট প্যাকেট থেকে পুরো তাক নষ্ট হয়ে যায়।
  8. 8ভোরে তুলে সেদিনই পৌঁছে দিন। কাঁচা মাশরুম দুই-তিন দিনের জিনিস, আর ফ্রিজ ছাড়া তার চেয়ে কম।
  9. 9যা বিক্রি হলো না তা শুকিয়ে রাখুন। শুকনো মাশরুম ৳১,০০০–১,৫০০ কেজিতে যায় আর অনেক দিন রাখা যায় — এটাই অবিক্রীত মালের একমাত্র বাঁচার পথ।
  10. 10নিজের ফেসবুক পাতা খুলে নিয়মিত খদ্দের বানান। অনেক চাষির বিক্রির বড় অংশ এভাবেই আসে, কারণ বাজারে আড়ত নেই।
  11. 11নিজে স্পন বানানো শিখুন। প্যাকেটপ্রতি খরচ ৳৩২ হলে বাইরে থেকে ৳৪০ দিয়ে কেনার দরকার পড়ে না, আর বাড়তি প্যাকেট অন্য চাষির কাছে বিক্রিও করা যায়।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিকম
  5. মেকম
  6. জুনকম
  7. জুলাকম
  8. আগকম
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · সাভারে সরকারি মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, আর শহরে সুপারশপ-রেস্টুরেন্ট-হোটেল সব মিলিয়ে দেশের প্রায় পুরো বাজারই এখানে।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · ঢাকার বাজার এক ঘণ্টার পথ, আর ছায়াযুক্ত জায়গা ও কম ভাড়ার ঘর সহজে মেলে।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · বন্দর উপজেলার চাষিরা দিনে ৮–১০ কেজি তুলে ঢাকায় পাঠান; সরবরাহের পথ ছোট বলে নষ্ট কম হয়।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · বড় শহরের সুপারশপ, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও হোটেল — ঢাকার পরে সবচেয়ে বড় ক্রেতাগোষ্ঠী এখানেই।
  • সম্ভবকক্সবাজার · পর্যটন মৌসুমে হোটেল-রেস্টুরেন্টের চাহিদা বাড়ে, তবে মৌসুম শেষ হলে বিক্রিও শেষ।
  • সম্ভবমানিকগঞ্জ · সাভার ও ঢাকার একেবারে কাছে, প্রশিক্ষণ ও স্পন সংগ্রহ সহজ।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি অফিসকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ সহজ, তবে বিক্রির বাজার ছোট।
  • সম্ভবসিলেট · শহরের হোটেল-রেস্টুরেন্ট আর প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা মিলিয়ে ছোট কিন্তু নিয়মিত বাজার।
  • কম উপযোগীনোয়াখালী · কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিলেও বাজার গড়ে ওঠেনি — স্থানীয় চাষি নিজেই বলেছেন, এখানকার মানুষ মাশরুম খেতে অভ্যস্ত নয়।
  • কম উপযোগীরংপুর · চাষের জন্য আবহাওয়া ভালো, কিন্তু স্থানীয়ভাবে মাশরুম কেনার অভ্যাস কম আর ঢাকায় পাঠাতে দূরত্ব অনেক।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: ভালো স্পনের উপর পুরো ফলন নির্ভর করে, আর ভালো স্পন সব জেলায় পাওয়া যায় না। খারাপ স্পন কিনলে ২৫–৩০ দিন পর বোঝা যায় যে ফলন হবে না — ততক্ষণে এক চক্রের পুরো টাকা আর সময় দুটোই শেষ।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: স্পন প্যাকেট এক চক্রেই শেষ হয়ে যায়, তাই প্রতি মাসেই নতুন করে কিনতে হয়। বিক্রির টাকা দেরিতে এলে পরের চক্রের প্যাকেট কেনা যায় না, আর ঘর একবার খালি হলে ফলন শুরু করতে আবার প্রায় এক মাস লাগে।
  • বেশিচাহিদা: এটাই এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় বিপদ, আর সবচেয়ে কম বলা হয়। ঢাকার বাইরে মাশরুমের বাজার এখনো গড়ে ওঠেনি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে নোয়াখালীর এক খামারি সরাসরি বলেছেন, এই অঞ্চলের মানুষ মাশরুম খেতে অভ্যস্ত নয় বলে বাজারই তৈরি হয়নি — তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বসে আছেন। ফলন হবেই, কিন্তু ক্রেতা না থাকলে ফলনটাই বোঝা।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: কাঁচা মাশরুম দুই-তিন দিনের বেশি থাকে না, ফ্রিজ ছাড়া আরও কম। যেদিন তোলা হলো সেদিনই বিক্রি না হলে শুকিয়ে ফেলতে হয়, আর শুকনো মালের ওজন কমে যায় অনেকটা। তোলার পর ক্রেতা খুঁজতে বসলে লোকসান নিশ্চিত।
  • বেশিঅন্যান্য: প্যাকেটে সবুজ বা কালো ছাতা পড়া। একটা সংক্রমিত প্যাকেট থেকে পাশের প্যাকেটগুলোয় ছড়ায় আর পুরো তাকের ফলন চলে যায়। ঘর বেশি গরম হলে বা বাতাস না চললে এটা বারবার হয়, আর প্যাকেটের পুরো টাকাটাই যায়।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।

মিল আছে এমন ব্যবসা

কৃষি ও খামার

ভাসমান বেডে সবজি ও চারা

কচুরিপানা ও শ্যাওলা দিয়ে পানির উপর ধাপ বানিয়ে সবজির চারা উৎপাদন। জমি লাগে না, সেচ লাগে না। নাজিরপুরে বেডপ্রতি খরচ ৳১১,০০০, চারা বিক্রির আশা ৳২০,০০০।

পুঁজি
৳২২ হাজার – ৳২.২ লাখ
জনবল
২ – ৬ জন
প্রথম আয়
৩৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

ভেড়া পালন

মাঠে ও চরে ঘাস খাইয়ে ভেড়া পালন। ২০২৬ সালের কোরবানির আগে জয়পুরহাটে এক খামারি ২৬টি ভেড়া বিক্রি করেছেন ৳২,৩০,০০০ টাকায় — গড়ে প্রতিটি প্রায় ৳৮,৮০০।

পুঁজি
৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
১৮০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)

গোবর আর কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি। ৪৫ দিনে প্রথম সার, নার্সারি ও সবজি চাষিরা ক্রেতা।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳৬০ হাজার
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম আয়
৪৫ – ৬০ দিন
বাজারদর
কৃষি ও খামার

ছাগল মোটাতাজাকরণ

পাঁচ-ছয় মাসের খাসি কিনে খাইয়ে কোরবানির হাটে বিক্রি। মে ২০২৬-এ চট্টগ্রামের হাটে ছোট ছাগল ৳৮,০০০–১৫,০০০, বড় ছাগল ৳৪০,০০০–৫০,০০০; বড় সংকর জাত কেজি দরে ৳৭০০–৮০০।

পুঁজি
৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৯০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান