রাবার ও প্লাস্টিক স্যান্ডেল তৈরি
পুরোনো জুতা ও ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক গলিয়ে সস্তা স্যান্ডেল বানানো। দেশে ৩০০–৪০০ কারখানা, বছরে কোটি জোড়ার বেশি উৎপাদন, আর খুচরা দাম জোড়াপ্রতি ৳১০০–৫০০।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳২,৫০,০০০ – ৳২৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৩ – ২৫ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৬০ – ১৮০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ৮ – ১৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি কী
গ্রামের হাট থেকে শহরের ফুটপাত — সবচেয়ে সস্তা জুতা বলতে সবাই রাবার আর প্লাস্টিকের স্যান্ডেলই বোঝে। এই স্যান্ডেল বানানোর কারখানা দেশে আছে ৩০০ থেকে ৪০০টি, তার মধ্যে বড় মাত্র দশটি, আর বছরে কোটি জোড়ার বেশি স্যান্ডেল তৈরি হয় — বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির হিসাব এটাই। বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ দেশি পণ্যের দখলে, বাকি ৪০ শতাংশের বড় অংশ চীনের। দোকানে ও ভ্যানে এই স্যান্ডেল বিক্রি হয় ৳১০০ থেকে ৳৫০০ টাকায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো কাঁচামালের। এই স্যান্ডেল তৈরির ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল আসে পুরোনো জুতা আর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে, যা টোকাইদের কাছ থেকে কিনে গলিয়ে নতুন করে বানানো হয়। মানে নতুন দানা কিনতে হয় না, আর সে কারণেই এত কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়। কিন্তু এখানেই নতুন সমস্যা: টোকাইদের অনেকে এখন প্লাস্টিক কুড়ানোর বদলে অটোরিকশা চালাতে যাচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় বেশি। কাঁচামালের জোগান তাই কমছে। নকশাতেও দেশি কারখানা পিছিয়ে — চীন থেকে সোল, রাবার আর ফুল আলাদা আলাদা করে আসে, তাতে করও কম লাগে, আর সেই নকশারই নকল করে দেশি কারখানা টিকে আছে। বর্ষাকালই এই ব্যবসার আসল মৌসুম, কারণ কাদাপানিতে চামড়ার জুতা কেউ পরতে চায় না।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১,৪০,০০০ – ৳১৩,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১০০ – ৳৫০০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৫৫ – ৳২৩০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২৫% – ৩০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৬০ – ১৮০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৮ – ১৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৩০ – ৯০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৫০ – ৩০০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- গলানোর ও ছাঁচের মেশিন এবং প্রতিটি মডেলের আলাদা ছাঁচ। দারাজে বিসমিল্লাহ মেশিনারি বিডি একটি প্লাস্টিক মোল্ডিং মেশিন ৳৫,২৫,০০০ টাকায় তালিকাভুক্ত করেছে (১৬-০৯-২০২৬); স্যান্ডেলের সোল প্রেসের আলাদা দর পাওয়া যায়নি।যন্ত্রপাতি
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু, বছর বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- কারখানা হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রযোজ্য কি না তা স্থানীয় দপ্তরে যাচাই করুন। প্লাস্টিক গলানোর কাজে ধোঁয়া ও বর্জ্য হয়, তাই এটি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় নয়। ফি ও মেয়াদ এখানে যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ছাঁচ চালানো, গলানোর তাপমাত্রা ঠিক রাখা আর নকশা নকল করে দ্রুত নতুন মডেল নামানো। সমিতির সভাপতি নিজেই বলেছেন, দেশি কারখানা চীনা মেশিন এনে নকশায় উন্নতির চেষ্টা করছে।দক্ষতা
- ভাঙারির আড়ত ও টোকাই নেটওয়ার্ক — পুরোনো জুতা ও ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক। এই শিল্পের ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল এখান থেকেই আসে।সরবরাহকারী
- বিদ্যুৎ, পানি ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাসহ ভাড়ার কারখানা এবং কাঁচামাল ও তৈরি মাল রাখার আলাদা ঘর।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কোন দামের স্যান্ডেল বানাবেন তা আগে ঠিক করুন। ৳১৫০–২০০ টাকার সাধারণ মডেলের বাজার সবচেয়ে বড়, আর সেখানেই চীনা পণ্যের সঙ্গে সরাসরি লড়াই।
- 2কাঁচামালের উৎস ঠিক করুন। এই শিল্পের ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল আসে পুরোনো জুতা ও ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে। ভাঙারির আড়ত ও টোকাইদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলে কারখানা চলবে না।
- 3ভাড়ার জন্য জায়গা নিন — বিদ্যুৎ, পানি আর মাল রাখার ঘরসহ। গলানো ও ছাঁচের কাজে তাপ ও ধোঁয়া হয়, তাই বসতবাড়ির ভেতরে না বসানোই ভালো।
- 4সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, আর কারখানা হিসেবে ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগবে কি না জেনে নিন।
- 5মেশিন ও ছাঁচ বসান। ছাঁচই এই ব্যবসার আসল সম্পদ — নকশা বদলাতে হলে নতুন ছাঁচ লাগে, আর সেটাই সবচেয়ে বড় আটকে থাকা খরচ।
- 6নমুনা বানিয়ে পাইকারি আড়তে দেখান। জুতার আড়ত নমুনা দেখে অর্ডার দেয়, আর প্রথম অর্ডারেই দাম ঠিক হয়ে যায়।
- 7বর্ষার আগে উৎপাদন বাড়ান। বৃষ্টিই এই ব্যবসার আসল মৌসুম — কাদাপানিতে মানুষ চামড়ার জুতা ছেড়ে সস্তা স্যান্ডেলে ফেরে।
- 8ঈদের আগে আলাদা চালান রাখুন। ঈদে সস্তা জুতার বিক্রি হঠাৎ বেড়ে যায়, আর তখন আড়ত নগদ টাকাতেই মাল নেয়।
- 9প্রতিটি মডেলের বিক্রি আলাদা করে লিখে রাখুন। যে মডেল চলে না, তার ছাঁচ আর কাঁচামাল দুটোই টাকা খেয়ে বসে থাকে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিবেশি
- মেবেশি
- জুনবেশি
- জুলাবেশি
- আগবেশি
- সেপ্টেবেশি
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দরের কারণে আমদানি করা সোল ও রাবার সহজে মেলে, আর বড় ভোক্তাবাজার আছে।
- খুব উপযোগীঢাকা · দেশের সবচেয়ে বড় জুতার পাইকারি বাজার ও ভাঙারির আড়ত দুটোই এখানে; ফুটপাত ও ভ্যানের বিক্রিও সবচেয়ে বেশি।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · ছোট কারখানার ঘনত্ব বেশি, ঢাকার আড়ত কাছে আর পুরোনো প্লাস্টিকের জোগানও ভালো।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের পাইকারি কেন্দ্র; ছোট যন্ত্রপাতি ও ছাঁচ স্থানীয়ভাবেই বানানো যায়।
- সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষা, তাই দুই দিকেই মাল পাঠানো সহজ।
- সম্ভবগাজীপুর · কারখানার শ্রমিকেরা বড় ক্রেতা, আর ভাড়ায় জায়গা ঢাকার চেয়ে সস্তা।
- সম্ভবযশোর · দক্ষিণ-পশ্চিমের হাটবাজারে সস্তা স্যান্ডেলের চাহিদা বেশি।
- সম্ভবরংপুর · ক্রয়ক্ষমতা কম হওয়ায় সবচেয়ে সস্তা স্যান্ডেলের বাজার এখানে সবচেয়ে বড়।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিনির্ভরশীলতা: কাঁচামালের জোগান একটাই সুতোয় ঝুলছে। এই স্যান্ডেলের ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল আসে টোকাইদের কুড়ানো পুরোনো জুতা ও প্লাস্টিক থেকে। কিন্তু টোকাইদের অনেকে এখন প্লাস্টিক কুড়ানোর বদলে অটোরিকশা চালাতে যাচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় বেশি। কাঁচামাল কমলে দাম বাড়ে, আর ৳১৫০ টাকার স্যান্ডেলে দাম বাড়ানোর জায়গা নেই।
- বেশিচাহিদা: চীনা পণ্যেই বাজার সয়লাব। দেশি পণ্যের দখলে প্রায় ৬০ শতাংশ, বাকি ৪০ শতাংশের বড় অংশ চীনের। প্যাসিফিক প্লাস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরাসরি বলেছেন, চীনের নকশার সঙ্গে তাঁরা পেরে উঠছেন না। চীন থেকে সোল, রাবার ও ফুল আলাদা আলাদা করে আসায় করও কম লাগে, তাই দামেও তারা এগিয়ে থাকে।
- মাঝারিচলতি মূলধন: ছাঁচেই টাকা আটকে যায়। প্রতিটি নতুন মডেলের জন্য নতুন ছাঁচ লাগে, আর মডেল না চললে সেই টাকা ফেরত আসে না। দারাজে একটি প্লাস্টিক মোল্ডিং মেশিনই ৳৫,২৫,০০০ টাকায় তালিকাভুক্ত — ছোট কারখানার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
- মাঝারিঅন্যান্য: মৌসুম ছোট। সমিতির সভাপতির ভাষায় বর্ষাই এ ব্যবসার আসল মৌসুম। বছরের বাকি সময় বিক্রি কম থাকে, অথচ শ্রমিক ও ভাড়ার খরচ বারো মাসই চলে। খরায় বা দেরিতে বৃষ্টি এলে পুরো বছরের হিসাব গোলমাল হয়ে যায়।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
কম্পিউটার এমব্রয়ডারি কারখানা
মেশিনে কাপড়ের উপর সুতার নকশা বসিয়ে অন্যের জন্য কাজ করে দেওয়া। টুপির কারখানা, বুটিক ও শাড়ির কুঠিই খদ্দের। হাতে যে কারচুপিতে ১৫ দিন লাগে, মেশিন তা ঘণ্টায় করে।
- পুঁজি
- ৳৩ লাখ – ৳১২ লাখ
- জনবল
- ২ – ৩০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
মোজা ও গেঞ্জি কারখানা
ঝুট কাপড়ে গেঞ্জি, মোজা ও সোয়েটার বানানোর কারখানা। পাবনায় প্রায় এক হাজার কারখানা, বছরে ১৮–২০ কোটি পিস; তবে ভারতে স্থলপথ বন্ধ হওয়ায় ৬৫ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ৫ – ১০০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
কার্টন ও বক্স তৈরি
ঢেউতোলা কাগজে কার্টন ও বাক্স বানানোর কারখানা। ছোট পার্সেল কার্টন প্রতিটি ৳২৪–৪০, আর দেশে দিনে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ পার্সেলই সবচেয়ে বড় বাজার।
- পুঁজি
- ৳৩ লাখ – ৳৩০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ৩০ জন
- প্রথম আয়
- ৪৫ – ১২০ দিন
বই প্রকাশনা ও প্রিন্টিং
পাণ্ডুলিপি থেকে বই ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া। সাদা লেখার কাগজ দিস্তাপ্রতি ৳৩৪–৪০, আর ছাপাখানা রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঘোষণা বাধ্যতামূলক।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳৫০ লাখ
- জনবল
- ২ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৬০ – ২৪০ দিন
