মূল অংশে যান
  • আমাদের তথ্য কপিরাইট সংরক্ষিত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

ক্যাপসিকাম ও উচ্চমূল্যের সবজি

নভেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে ক্যাপসিকাম চাষ। ঢাকায় খুচরা সবুজ ৳২২০ ও রঙিন ৳৪০০ কেজি, কিন্তু সারা দেশের মোট উৎপাদন বছরে মাত্র ৪৭৫ টন — ক্রেতার সংখ্যা সীমিত।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
শুরুর পুঁজি
৳১,১০,০০০ – ৳৭,০০,০০০
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম বিক্রি
৬০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠবে
৩.৫ – ৫ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি কী

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ এখন সালাদ, নুডলস আর চায়নিজ রান্নার নিয়মিত উপাদান, আর সেই কারণেই শহরে এর চাহিদা বাড়ছে। চাষ হয় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, চার মাসে সাত থেকে দশবার পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। লাভ ভালো। ভোলা সদরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য, উৎপাদন খরচের প্রায় তিন গুণ বেশি দামে ক্যাপসিকাম বিক্রি হয়। ভোলার মাঝের চরের চাষি মো. শাহজাহান এক হেক্টরের বেশি জমিতে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করে পনেরো লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা করছিলেন। কিন্তু এই পাতার সবচেয়ে জরুরি কথাটা আলাদা, আর সেটা আগে জানা দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারা দেশে ক্যাপসিকাম উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪৭৫ টন, জমি ছিল মাত্র ১১৯ একর। সারা দেশের মোট উৎপাদন ৪৭৫ টন — এটি একটি ছোট বাজার, বড় বাজার নয়। ক্রেতাও নির্দিষ্ট: হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়নিজ রান্নাঘর আর শহরের সুপারশপ। ভোলার মাল সরাসরি ঢাকার কারওয়ান বাজারে যায়, সেখান থেকেই সারা দেশে ছড়ায়। উৎপাদন বাড়লে দাম দ্রুত পড়ে — ভোলাতেই আগে যে ক্যাপসিকাম ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হতো, ভরা মৌসুমে তা নেমে এসেছে ৮০ টাকায়। তাই চাষ শুরু করার আগে ক্রেতা ঠিক করাই আসল কাজ, ফলন নয়।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

বিষয়পরিসরসূত্রসংশোধন দিন
মাসিক চলতি মূলধন৳২৫,০০০ – ৳১,৭৫,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৮০ – ৳৪০০ / কেজিবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩৭ – ৳৯৫ / কেজিসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪৫% – ৬৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৬০ – ৯০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৩.৫ – ৫ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৬০ – ১২০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৮% – ২০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৭ – ১০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • সেচের পাম্প, স্প্রেয়ার, ওজনের যন্ত্র ও প্যাকেটের সরঞ্জাম। কুষ্টিয়ায় কৃষকেরা আধুনিক যন্ত্রে মেপে প্যাকেট করেন।যন্ত্রপাতি
  • বীজ ও চারা (এসিআই, ব্র্যাক, এআর মালিক সিড, অথবা বিএডিসির মাধ্যমে বারির জাত), সার, মালচিং ফিল্ম, ঘেরার জাল আর সেচের সরঞ্জাম।প্রাথমিক মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি বা সরবরাহ করলে। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০। শুধু খেত থেকে পাইকারের কাছে বিক্রি করলে সাধারণত লাগে না, তবে হোটেল বা সুপারশপে নিয়মিত সরবরাহ করতে চাইলে তারা চাইতে পারে।লাইসেন্স
  • মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, সার ব্যবস্থাপনা আর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা — উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণে এই তিনটিই শেখানো হয়। নিয়মিত ফল তোলার নিয়মও জানতে হবে।দক্ষতা
  • বীজ কোম্পানি ও বিএডিসি, আর বিক্রির দিকে ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়ত বা সরাসরি হোটেল-সুপারশপের ক্রয় বিভাগ।সরবরাহকারী
  • পানি জমে না এমন উঁচু ও ঝুরঝুরে জমি, সেচের ব্যবস্থাসহ। চরের পলিমাটিতে ফলন ভালো হয়। কুষ্টিয়ায় ১০ বিঘা, ভোলায় এক হেক্টরের বেশি — দুই মাপেই বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1ক্রেতা আগে ঠিক করুন। সারা দেশে বছরে উৎপাদন মাত্র ৪৭৫ টন, মানে ক্রেতার সংখ্যা সীমিত — চায়নিজ ও ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ, হোটেল আর সুপারশপ। কারওয়ান বাজারের নির্দিষ্ট আড়তদারের সঙ্গেও আগে কথা বলে রাখুন।
  2. 2জমি বাছুন। চরের পলিমাটিতে ক্যাপসিকাম ভালো হয় — ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের ভাষায়, চরের জমিতে পলি জমে থাকায় উৎপাদন ভালো হচ্ছে। পানি জমে না এমন উঁচু ও ঝুরঝুরে জমি দরকার।
  3. 3বীজ ও জাত ঠিক করুন। এসিআই, ব্র্যাক ও এআর মালিক সিড ক্যাপসিকামের বীজ বাজারজাত করে; বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী তিনটি জাত উদ্ভাবন করেছে, যা বিএডিসির মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। কুষ্টিয়ায় 'ইন্দ্রা গোল্ড' জাত ব্যবহার করা হয়েছে।
  4. 4উপজেলা কৃষি অফিসে যান। 'মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ' প্রকল্পের আওতায় ১১০টি উপজেলায় কৃষকদের ক্যাপসিকাম উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে — মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, সার ব্যবস্থাপনা ও পোকা দমন। প্রশিক্ষণ বিনা মূল্যে পাওয়া যায় কি না জেনে নিন।
  5. 5চারা তৈরি করে রোপণ করুন। রোপণের প্রায় ৬০ দিন পর ফল আসতে শুরু করে; পুরো ফসলের জীবনকাল প্রায় ১২০ দিন।
  6. 6মালচিং করুন আর খেত জাল দিয়ে ঘিরে দিন। কুষ্টিয়ায় চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় রোগবালাই কম হয়েছে এবং বিষমুক্ত চাষ সম্ভব হয়েছে।
  7. 7চার মাসে ৭ থেকে ১০ বার ফল তুলুন। ক্যাপসিকাম একবারে পাকে না; নিয়মিত না তুললে গাছ নতুন ফল দেওয়া কমিয়ে দেয়।
  8. 8তোলার পর পরিষ্কার করে ওজন মেপে প্যাকেট করুন। কুষ্টিয়ায় কৃষকেরা দল বেঁধে ফল তোলেন, পরিষ্কার করেন আর আধুনিক যন্ত্রে মেপে প্যাকেট করেন — হোটেল ও সুপারশপ এভাবেই নিতে চায়।
  9. 9দ্রুত বাজারে পাঠান। ক্যাপসিকাম নরম ও পচনশীল; ভোলা থেকে মাল সরাসরি ঢাকার কারওয়ান বাজারে যায় আর সেখান থেকে সারা দেশের পাইকার কিনে নেন।
  10. 10মৌসুম শেষে জমিতে পরের ফসল ঠিক করে রাখুন। কুষ্টিয়ায় ক্যাপসিকামের পর জমিতে আধুনিক জাতের পেঁপের চারা রোপণ করা হয় — জমি ফেলে রাখলে ইজারার টাকা নষ্ট।
  11. 11দাম পড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকুন। উৎপাদন বাড়ায় দাম কমেছে — ভোলায় আগে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে এখন ৮০ টাকা। একটি ভালো বছরের হিসাব দিয়ে পরের বছরের পরিকল্পনা করবেন না।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনকম
  7. জুলাকম
  8. আগকম
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীভোলা · দেশের সবচেয়ে বড় উৎপাদক — ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সারা দেশের ৩২৪ টনের মধ্যে ২৬২ টনই ভোলায়। চরের পলিমাটিতে ফলন ভালো, আর মাল সরাসরি ঢাকার কারওয়ান বাজারে যায়।
  • খুব উপযোগীঢাকা · উৎপাদনের জায়গা নয়, বিক্রির জায়গা — কারওয়ান বাজারই দেশের কেন্দ্রীয় বাজার, আর খুচরা দাম সবুজ ৳২২০ ও রঙিন ৳৪০০ কেজি।
  • খুব উপযোগীকুষ্টিয়া · কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নে ৩০ জন কৃষক ১০ বিঘায় বাণিজ্যিক চাষ করছেন, আর মাল কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, খুলনা ও ঢাকায় যায়।
  • সম্ভববগুড়া · বিবিএসের তথ্যে ভালো উৎপাদনের জেলা হিসেবে উল্লেখ আছে; সবজির বড় বাজারও এখানে।
  • সম্ভবচুয়াডাঙ্গা · ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ টন উৎপাদন হয়েছে।
  • সম্ভবজয়পুরহাট · বিবিএসের তথ্যে ভালো উৎপাদনের জেলা হিসেবে উল্লেখ আছে।
  • সম্ভবকুড়িগ্রাম · ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ টন; চরের জমি প্রচুর।
  • সম্ভবনওগাঁ · ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১১ টন।
  • সম্ভবসিলেট · ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ টন উৎপাদন হয়েছে সিলেট অঞ্চলে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: বাজারটাই ছোট, আর এটাই এই ফসলের আসল সীমা। বিবিএসের হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারা দেশে ক্যাপসিকাম উৎপাদন ৪৭৫ টন, জমি মাত্র ১১৯ একর। ক্রেতা মূলত হোটেল, চায়নিজ রেস্তোরাঁ ও শহরের সুপারশপ — সাধারণ পরিবারের রান্নায় এটি এখনো নিয়মিত নয়। কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে চাষে নামলেই এই বাজার ভরে যায়, আর তখন দাম পড়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
  • বেশিচাহিদা: দাম ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। চার বছরে উৎপাদন তিন গুণের বেশি বেড়েছে — ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫১ টন থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৫ টন। একই সঙ্গে ভোলায় খেতের দাম ১২০ টাকা থেকে নেমে ভরা মৌসুমে ৮০ টাকা হয়েছে। উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে, একরপ্রতি ২,৯২২ কেজি থেকে ৪,০০৬ কেজি — অর্থাৎ একই জমিতে আরও বেশি ফলবে আর দামের চাপ আরও বাড়বে।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: ক্যাপসিকাম নরম ও দ্রুত নষ্ট হয়। ভোলার চর থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজার পর্যন্ত নৌ ও সড়কপথে পৌঁছাতে সময় লাগে, আর হিমাগার ছাড়া সেই যাত্রায় ক্ষতি হয়। বাজারে দাম কম থাকলেও ফল খেতে রেখে দেওয়া যায় না — তুলতেই হয়, বেচতেই হয়।
  • বেশিচলতি মূলধন: আগে খরচ, পরে আয়। কুষ্টিয়ায় ১০ বিঘায় জমির ইজারা, চারা, সার ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে প্রথম ফল ওঠার আগেই, আর প্রথম ফল আসে রোপণের ৬০ দিন পর। এই দুই মাস পুরো টাকা মাঠে পড়ে থাকে; ফলন খারাপ হলে বা দাম পড়ে গেলে ফেরার পথ নেই।

সূত্র

    কী বদলেছে

    এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

    প্রশ্নোত্তর

    এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।

    মিল আছে এমন ব্যবসা

    কৃষি ও খামার

    টার্কি পালন

    ২০১৫–২০২০ সালের হুজুগে প্রায় ৫ হাজার খামার হয়েছিল, এখন কয়েক শ। বাচ্চার দাম ৬০০ থেকে ১৫০ টাকায় নেমেছে আর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই পালন নিরুৎসাহিত করে।

    পুঁজি
    ৳১ লাখ
    জনবল
    ১ – ৩ জন
    প্রথম আয়
    ৩০ দিন
    সম্পাদকীয় অনুমান
    কৃষি ও খামার

    পান বরজ

    বাঁশ ও ছনের বরজে পান চাষ। বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় ৳১ লাখ, আর রাজশাহীতে ৬৪ পাতার এক বিড়া ৳১০০–১২০ থেকে নেমে ৳৪ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

    পুঁজি
    ৳১ লাখ
    জনবল
    ১ – ৪ জন
    প্রথম আয়
    ১২০ – ১৮০ দিন
    সম্পাদকীয় অনুমান
    কৃষি ও খামার

    হাঁস পালন (খাকি ক্যাম্পবেল)

    ডিম বিক্রির জন্য ৩০০টি হাঁস দিয়ে শুরু। হাওর ও বিল এলাকায় খাবারের খরচ অনেক কম।

    পুঁজি
    ৳১.২ লাখ – ৳২ লাখ
    জনবল
    ১ – ২ জন
    প্রথম আয়
    ১৫০ – ১৮০ দিন
    বাজারদর
    কৃষি ও খামার

    ফুল চাষ ও ফুলের দোকান

    গোলাপ, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস ও গাঁদা ফলিয়ে গদখালী বা গাবতলীর পাইকারি মোকামে বিক্রি। এক বিঘা গোলাপে খরচ প্রায় ৳১,৫০,০০০, আর সারা বছরের আয় নির্ভর করে কয়েকটি দিবসের দামের উপর।

    পুঁজি
    ৳১.২ লাখ – ৳৩.৫ লাখ
    জনবল
    ১ – ৫ জন
    প্রথম আয়
    ৬০ – ৯০ দিন
    বাজারদর