ডে-কেয়ার সেন্টার
কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশুকে দিনভর দেখে রাখার কেন্দ্র। ২০২১ সালের আইনে নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক — সনদ ছাড়া চালালে ২ বছর কারাদণ্ড বা ৳৫–১০ লাখ জরিমানা।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳৩,০০,০০০ – ৳১২,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৩ – ১২ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ – ১৮০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ১২ – ২৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ঘরে বসে · কঠিন
ব্যবসাটি কী
কর্মজীবী বাবা-মায়ের ছোট শিশুকে সারা দিন দেখে রাখার কেন্দ্র। সকালে মা অফিসে যাওয়ার পথে শিশুকে রেখে যান, বিকেলে ফেরার পথে নিয়ে যান; মাঝের সময়টা শিশুর খাওয়া, ঘুম, খেলা আর প্রাথমিক শেখার দায়িত্ব কেন্দ্রের। শহরে এই চাহিদা সত্যিকারের, আর তা মেটানোর মতো কেন্দ্র নেই। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজস্ব বাজেটে সারা দেশে মাত্র ৪৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালায়, আর একটি প্রকল্পের অধীনে আরও ২০টি কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ১,১৭০ জন শিশুর ব্যবস্থা — গোটা দেশের জন্য এটুকুই। অনেকে জানেন না যে এই কাজ এখন আইনে বাঁধা। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ (২০২১ সনের ১০ নং আইন, ২৪ জুন ২০২১) অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ ছাড়া কেউ কেন্দ্র খুলতে বা চালাতে পারবেন না। সনদের মেয়াদ তিন বছর, আর সনদ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্র চালু না করলে সনদ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায়। সনদ ছাড়া কেন্দ্র চালালে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই — আর দ্বিতীয়বার হলে দ্বিগুণ। আইনে আরও বলা আছে, কেন্দ্রের সেবা মূল্য দৃশ্যমান জায়গায় টাঙিয়ে রাখতে হবে, আর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে ছবি ধারণ করতে পারে এমন নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে, প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর বা আর্চওয়েও। কিন্তু কতজন শিশুর জন্য কতজন কর্মী লাগবে, নিবন্ধনের ফি কত, আর কর্তৃপক্ষটি কে — আইন বলেছে এসব 'নির্ধারিত' হবে বিধি দিয়ে, আর সেই বিধি জনসমক্ষে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮০,০০০ – ৳৪,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৫,০০০ – ৳১৫,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২,৫০০ – ৳৪,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৫০% – ৭৩% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ – ১৮০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১২ – ২৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ১০% – ২৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৫০ – ৫৯ | সরকারি সূত্র |
শুরু করতে যা লাগবে
- সিসি ক্যামেরা — আইনের ধারা ১২(৬) অনুযায়ী প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান, কেন্দ্রের চারপাশ ও প্রয়োজনীয় স্থানে দীর্ঘ সময়ের ভিডিও ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চমানের নাইট ভিশন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসাতে হবে, আর প্রয়োজনে প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বা আর্চওয়ে। এই ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি ও রেকর্ডকৃত কথাবার্তার সাক্ষ্য মূল্য আইনের ধারা ২৭-এ আলাদা করে স্বীকৃত।যন্ত্রপাতি
- শিশুদের খাবার, ঘুমানোর বিছানা, খেলনা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী। সরকারি কেন্দ্রের খাদ্য রুটিন অনুসরণযোগ্য: সকাল ১০টা–১০টা ৩০ মিনিটে দুধ-পাউরুটি-সিদ্ধ ডিম বা নুডলস বা সুজি, দুপুর ১টা–১টা ৩০ মিনিটে ভাত-ডাল-সবজি-মুরগি বা রুই মাছ, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট–৪টায় ফল, দই বা পুডিং। বিচিযুক্ত ফল দেওয়া যাবে না এবং মাসে একদিন পোলাও-মাংস দিতে হবে।প্রাথমিক মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু, প্রতি বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- নিবন্ধন সনদ — শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ (২০২১ সনের ১০ নং আইন, ২৪ জুন ২০২১)। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগ করে (ধারা ৫)। সনদের মেয়াদ ৩ বছর, মেয়াদ শেষের আগে নবায়নযোগ্য (ধারা ৬(২)); নবায়নে দেরি হলে ৩০ দিনের মধ্যে বিলম্ব ফি দিয়ে আবেদন করা যায় (ধারা ৮(৩))। সনদ ইস্যুর ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্র চালু না করলে সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (ধারা ৭(৩))। কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন ছাড়া সনদ হস্তান্তর বা ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে না (ধারা ৭(৪),(৫))। নিবন্ধন ও নবায়ন ফি আইনে 'নির্ধারিত' বলা আছে, কিন্তু সেই বিধি জনসমক্ষে পাওয়া যায়নি।লাইসেন্স
- নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ (ধারা ৭(১)(ঙ)) এবং নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মচারী (ধারা ৭(১)(চ)) থাকতে হবে। শ্রম আইনের ধারা ৯৪(২) অনুযায়ী শিশু কক্ষ শিশুদের পরিচর্যায় অভিজ্ঞ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। শিশুপ্রতি কতজন কর্মী লাগবে তা আইনে সংখ্যায় বলা নেই — বিধি দিয়ে নির্ধারিত হবে, আর সেই বিধি পাওয়া যায়নি।দক্ষতা
- কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো সনদের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী হতে হবে (ধারা ১২(৪))। তুলনার জন্য: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৯৪(৫) অনুযায়ী কারখানার শিশু কক্ষের উচ্চতা মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৬০ সেন্টিমিটার এবং প্রতি শিশুর জন্য মেঝের পরিমাণ কমপক্ষে ৬০০ বর্গ সেন্টিমিটার হতে হবে; কক্ষে যথেষ্ট আলো-বাতাস থাকতে হবে, ধোঁয়া-ধুলা-গন্ধ বা শব্দময় জায়গার কাছে হবে না, দেয়াল ও ছাদে তাপ প্রতিরোধক থাকতে হবে এবং তা পানি-রোধক হতে হবে।কাজের জায়গা
- কেন্দ্রের সময়সূচি ও বয়সসীমা ঠিক করুন। সরকারি কেন্দ্রগুলো ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের নেয় এবং সরকারি ছুটির দিন বাদে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে; জাতীয় মহিলা সংস্থার ঢাকার কেন্দ্রটি ১ থেকে ৬ বছরের শিশুদের জন্য, সকাল ৮টা ৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1প্রথমে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ পড়ুন। নিবন্ধন সনদ ছাড়া কেন্দ্র খোলা বা চালানো আইনত নিষিদ্ধ — ধারা ৪(২)। শুধু সরকার, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রেই নিবন্ধন লাগে না।
- 2নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কে, তা জেনে নিন। আইনের ধারা ৫ বলছে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষের নাম ও আবেদনের ফরম চেয়ে নিন।
- 3নিবন্ধনের শর্ত মিলিয়ে দেখুন — ধারা ৭(১): বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, নির্ধারিত আর্থিক সচ্ছলতা থাকতে হবে, নৈতিক স্খলনজনিত দণ্ড ভোগ করে থাকলে দুই বছর পার হতে হবে, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ থাকতে হবে, নির্ধারিত যোগ্যতার কর্মচারী থাকতে হবে আর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত অবকাঠামো থাকতে হবে।
- 4ভাড়ার জন্য বাসা বা ফ্লোর বাছুন এবং ঠিকানা চূড়ান্ত করেই আবেদন করুন — ধারা ৭(৫) অনুযায়ী নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন ছাড়া কেন্দ্রের ঠিকানা বদলানো যায় না।
- 5সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং এনবিআর থেকে টিআইএন করুন।
- 6নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন — ধারা ১২(৬) অনুযায়ী প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও কেন্দ্রের চারপাশে দীর্ঘ সময়ের ভিডিও ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চমানের নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে, আর প্রয়োজনে প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বা আর্চওয়ে।
- 7প্রশিক্ষিত নারী কর্মী নিয়োগ দিন। শ্রম আইনের ধারা ৯৪(২) অনুযায়ী শিশু কক্ষ শিশুদের পরিচর্যায় অভিজ্ঞ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে; দিবাযত্ন আইনেও কর্মীদের যোগ্যতা নির্ধারিত হবে বলা আছে।
- 8ভর্তি ও হস্তান্তরের নিয়ম লিখে রাখুন — ধারা ১২(২) অনুযায়ী অভিভাবক বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির কাছ থেকেই শিশু নিতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর কাছেই ফেরত দিতে হবে, আর ধারা ১২(৩) অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
- 9সেবা মূল্য ঠিক করে দৃশ্যমান জায়গায় টাঙিয়ে দিন — ধারা ১০(২)-এ এটি বাধ্যতামূলক। আশপাশের কেন্দ্রের বোর্ড দেখে দর ঠিক করাই সবচেয়ে বাস্তব উপায়।
- 10খাবারের রুটিন ঠিক করুন। সরকারি কেন্দ্রের রুটিনে দিনে তিনবার খাবার দেওয়া হয়, বিচিযুক্ত ফল দেওয়া নিষেধ, আর মাসে একদিন উন্নতমানের খাবার দিতে হয়।
- 11আশপাশের অফিস, হাসপাতাল ও কারখানার সঙ্গে কথা বলুন। যে প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ৪০ জন বা তার বেশি নারী শ্রমিক কাজ করেন, শ্রম আইনের ধারা ৯৪(১) অনুযায়ী তাদের ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য শিশু কক্ষের ব্যবস্থা রাখতেই হবে — এখানেই আপনার নিয়মিত ক্রেতা।
- 12সনদ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্র চালু করুন — ধারা ৭(৩) অনুযায়ী না পারলে সনদ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায়। আর মেয়াদ শেষের আগেই নবায়নের আবেদন করুন; দেরি হলে ৩০ দিনের মধ্যে বিলম্ব ফি দিয়ে আবেদন করা যায়।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাস্বাভাবিক
- আগস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · পোশাক কারখানা, বন্দর ও ব্যাংক-অফিসে কর্মরত নারীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু সরকারি প্রকল্পের কোনো কেন্দ্র এখানে নেই।
- খুব উপযোগীঢাকা · সরকারি প্রকল্পের ২০টি কেন্দ্রের ১১টিই ঢাকায় — আশুলিয়া, লালমাটিয়া, মতিঝিল, সমবায় ভবন, সড়ক ভবন, পানি ভবন, ভূমি ভবন, জাতীয় গ্রন্থাগার, পিএসসি সচিবালয়সহ; ধানমন্ডি, কমলাপুর, পল্লবী, মহাখালী, রামপুরা, মুগদা ও সায়েদাবাদেও কেন্দ্র আছে। চাকরিজীবী মায়ের সংখ্যা এখানেই সবচেয়ে বেশি।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক সবচেয়ে বেশি; যেসব প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন বা তার বেশি নারী শ্রমিক কাজ করেন, শ্রম আইনের ধারা ৯৪ অনুযায়ী তাদের শিশু কক্ষ রাখতেই হবে — এটাই নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · কারখানা ও অফিসে কর্মরত নারীর সংখ্যা বেশি আর ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতে সময় যায়, তাই দিনভর শিশু রাখার প্রয়োজন বেশি।
- সম্ভবচাঁদপুর · সরকারি প্রকল্পের কেন্দ্র আছে, তবে বেসরকারি কেন্দ্রের বাজার ছোট।
- সম্ভবকক্সবাজার · সরকারি প্রকল্পের কেন্দ্র আছে; হোটেল, এনজিও ও ত্রাণ সংস্থায় কর্মরত নারীর সংখ্যা বেড়েছে।
- সম্ভবগাইবান্ধা · সরকারি প্রকল্পের কেন্দ্র আছে, তবে ক্রয়ক্ষমতা কম বলে ফি কম রাখতে হবে।
- সম্ভবনোয়াখালী · সরকারি প্রকল্পের কেন্দ্র আছে; জেলা শহরের অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরাই ক্রেতা।
- সম্ভবরংপুর · সরকারি প্রকল্পের একটি কেন্দ্র আছে; বিভাগীয় শহরে সরকারি অফিস ও হাসপাতালের নারী কর্মীরাই মূল ক্রেতা।
- সম্ভবটাঙ্গাইল · সরকারি প্রকল্পের কেন্দ্র আছে; জেলা শহরের চাকরিজীবী পরিবার ও তাঁতশিল্পে কর্মরত নারীরা ক্রেতা।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধন সনদ ছাড়া কেন্দ্র চালানো অপরাধ। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১-এর ধারা ২০ অনুযায়ী এর শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা — তবে ৫ লাখ টাকার কম নয় — অর্থদণ্ড, অথবা দুটোই; দ্বিতীয়বার একই অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানা দুটোই দ্বিগুণ। অর্থাৎ সবচেয়ে ছোট শাস্তিটিও ৳৫,০০,০০০, যা অনেক ছোট কেন্দ্রের পুরো পুঁজির চেয়ে বেশি।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: আইনটি আছে, কিন্তু বিধিগুলো জনসমক্ষে নেই। নিবন্ধনের ফি কত, কতজন শিশুর জন্য কতজন কর্মী লাগবে, কী শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে, অবকাঠামো কেমন হতে হবে — আইন সবগুলোকেই 'নির্ধারিত' বলেছে, অর্থাৎ বিধির উপর ছেড়ে দিয়েছে, আর সেই বিধি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে বিনিয়োগ করার আগে জানার উপায় নেই আপনাকে ঠিক কী কী মানতে হবে এবং তাতে কত খরচ পড়বে।
- বেশিঅন্যান্য: শিশুর কোনো ক্ষতি হলে সেটি আলাদা ফৌজদারি অপরাধ। আইনে আলাদা ধারা আছে শিশুর নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যের দণ্ড (ধারা ২৩), কর্তব্যে অবহেলার দণ্ড (ধারা ২৪), শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দণ্ড (ধারা ২৫), কেন্দ্র থেকে শিশু নিখোঁজ বা হারিয়ে যাওয়ার দণ্ড (ধারা ২৬) এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার ও তথ্য গোপনের দণ্ড (ধারা ২২)। মোবাইল কোর্টেরও এখতিয়ার আছে (ধারা ৩০)। একজন কর্মীর একদিনের অসাবধানতাই মালিককে আদালতে দাঁড় করাতে পারে।
- বেশিচলতি মূলধন: খরচগুলো স্থির, আয়টা নয়। বাসাভাড়া, কর্মীদের বেতন আর সিসি ক্যামেরার খরচ ১০ জন শিশু থাকলেও যা, ৫০ জন থাকলেও প্রায় তাই। আসন খালি থাকলে টাকাটা মালিকের পকেট থেকেই যায়, আর সরকারি প্রকল্পের হিসাবে একটি কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৫৯ জন শিশু ধরা হয়েছে — অত শিশু জোগাড় করতে সময় লাগে।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: প্রশিক্ষিত নারী কর্মীর উপর পুরো কেন্দ্র নির্ভরশীল, আর আইনেও কর্মীর যোগ্যতা শর্ত হিসেবে বাঁধা। একজন অভিজ্ঞ কর্মী ছেড়ে দিলে শুধু কাজ আটকায় না — অভিভাবকরাও শিশু ছাড়িয়ে নিতে শুরু করেন, কারণ তাঁরা প্রতিষ্ঠানকে নয়, ওই মানুষটিকেই বিশ্বাস করেন।
সূত্র
- সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ৩০ জুল, ২০২৬
সমর্থন করে: দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা, মাসিক চলতি মূলধন · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২৪ জুন, ২০২১
সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ৯৪ — শিশু কক্ষ
সংগ্রহ: ১১ অক্টো, ২০০৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
ফিজিওথেরাপি সেন্টার
স্ট্রোক, দুর্ঘটনা ও ব্যথার রোগীকে ব্যায়াম ও যন্ত্র দিয়ে সারিয়ে তোলার কেন্দ্র। রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া চালালে দুই বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানা।
- পুঁজি
- ৳৩ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ৬০ – ১৮০ দিন
জিম ও ফিটনেস সেন্টার
ভাড়া ঘরে যন্ত্র বসিয়ে মাসিক বা বার্ষিক ফি-তে সদস্য নেওয়ার ব্যবসা। টাকা আসে আগে, খরচ চলে সারা বছর; সদস্য ধরে রাখার হারই সব ঠিক করে।
- পুঁজি
- ৳২.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
সিএনজি ও অটোরিকশা ভাড়া
অটোরিকশা কিনে চালকের কাছে দিয়ে দৈনিক জমা নেওয়ার ব্যবসা। বিআরটিএর বাঁধা জমা ৳৯০০, বাস্তবে নেওয়া হয় ৳১,০০০–১,২০০, দুই বেলায় দিলে ৳১,৮০০ পর্যন্ত।
- পুঁজি
- ৳৩.৮ লাখ – ৳১৮ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
আইপিএস ও ব্যাটারি বিক্রি ও সার্ভিসিং
আইপিএস বসানো আর ব্যাটারি বদলানোর দোকান। মেশিন একবার বিক্রি হয়, ব্যাটারি প্রতি ১৮–৩০ মাসে আবার — আর পুরো সেটের দামের বেশির ভাগটাই ব্যাটারির।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳৬ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
