মোবাইল ও এক্সেসরিজ দোকান
ফোন, এক্সেসরিজ ও সারানোর দোকান। হ্যান্ডসেটে লাভ প্রায় নেই — দোকান চলে চার্জার-কাভার-গ্লাসের বিক্রি আর সার্ভিসিংয়ের মজুরিতে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,০০,০০০ – ৳৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১০ – ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ৪ – ৮ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি কী
ছোট একটা দোকান, সামনে কাচের শোকেসে কয়েকটা ফোন, আর ভেতরে চার্জার, ব্যাক কাভার, গ্লাস, হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক, মেমোরি কার্ড — আর এক কোণে ফোন সারানোর টেবিল। বাইরে থেকে মনে হয় ফোন বিক্রি করেই দোকান চলে। আসলে চলে না। হ্যান্ডসেটে দাম বাঁধা থাকে, পাশের দোকানও একই দামে দেয়, তাই সেটপ্রতি যা থাকে তা সামান্য। দোকান টেকে এক্সেসরিজ আর সার্ভিসিংয়ে — একটা চার্জার ৳১৯০–৬৯০, একটা গ্লাস বা কাভার তার চেয়েও কম দামে ঢোকে, আর স্ক্রিন বদলানো বা চার্জিং পোর্ট ঠিক করার কাজে হাতের মজুরিটাই লাভ। এই ভাগটা না বুঝে যে শুধু ফোন তুলে বসে, তার পুঁজি শোকেসেই পড়ে থাকে। নিয়মও বদলে গেছে। ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালু হয় আর ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করা শুরু হয়। এখন প্রতিটি ফোনের ১৫ অঙ্কের আইএমইআই জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে বিটিআরসির তালিকায় থাকতে হবে, আর অবৈধ বা ক্লোন করা ফোন ৯০ দিনের সময় শেষে বন্ধ হয়ে যাবে। চালু থাকা ফোনের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশই অনিবন্ধিত বা ধূসর বাজারের — মানে দেশের বহু দোকানের গুদামের মালই প্রশ্নের মুখে। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর মোবাইল ব্যবসায়ীরা সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। যে দোকান বৈধ আমদানিকারকের রসিদ রাখে আর সারানোর কাজ জানে, সে-ই এখন নিরাপদ।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮০,০০০ – ৳৪,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১৯০ – ৳৬৯০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳১১০ – ৳৪৫০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৩৫% – ৪২% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১০ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৪ – ৮ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ১ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩% – ৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১০ – ৪০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- কাচের শোকেস, সারানোর টেবিল, স্ক্রু ড্রাইভার সেট, হিট গান, সোল্ডারিং আয়রন, মাল্টিমিটার, ফ্ল্যাশিং বক্স ও কম্পিউটার।যন্ত্রপাতি
- দ্রুত চলে এমন এক্সেসরিজ — চার্জার, টাইপ-সি ও মাইক্রো ইউএসবি কেব্ল, স্ক্রিন গ্লাস, ব্যাক কাভার, হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক, মেমোরি কার্ড। চলতি মডেলের কাভার-গ্লাস না থাকলে খদ্দের ফিরে যায়।প্রাথমিক মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কর্মদিবসে দেওয়া হয়।লাইসেন্স
- বিটিআরসির এনইআইআর — প্রতিটি হ্যান্ডসেটের ১৫ অঙ্কের আইএমইআই জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে কেন্দ্রীয় তালিকায় নিবন্ধিত থাকতে হবে। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ চালু, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর, অবৈধ ও ক্লোন করা ফোনের জন্য ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।লাইসেন্স
- ফোন সারানোর কাজ — স্ক্রিন ও ব্যাটারি বদল, চার্জিং পোর্ট, সফটওয়্যার ও ফ্ল্যাশিং। এই কাজটা জানলে খদ্দের বারবার আসে আর মজুরিটা পুরোই লাভ।দক্ষতা
- বৈধ আমদানিকারক বা কোম্পানির পরিবেশক, আর এক্সেসরিজের পাইকারি বাজার। রসিদে আইএমইআই না থাকলে সেই ফোন তোলা এখন আর নিরাপদ নয়।সরবরাহকারী
- বাজারের ভেতর বা রাস্তার ধারে ছোট দোকান, বিদ্যুৎ ও আলো ভালো থাকতে হবে। জায়গা বেশি লাগে না, কিন্তু লোক চলাচল লাগে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1জায়গা বাছুন — বাজারের ভেতর, বাস স্ট্যান্ড বা কলেজের পাশে, যেখানে দিনে অনেক মানুষ হেঁটে যায়। মোবাইলের দোকান হাঁটাপথের ব্যবসা।
- 2সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন আর এনবিআর থেকে টিআইএন করান।
- 3ঠিক করুন দোকানটা কীসের — শুধু এক্সেসরিজ ও সারানো, নাকি ফোনও বিক্রি করবেন। শুরুতে এক্সেসরিজ ও সারানো দিয়ে শুরু করলে পুঁজি অনেক কম লাগে।
- 4ফোন তুললে বৈধ আমদানিকারক বা কোম্পানির পরিবেশকের কাছ থেকেই নিন, আর প্রতিটি সেটের রসিদে আইএমইআই লেখা আছে কি না দেখে নিন।
- 5বিক্রির আগে প্রতিটি ফোনের আইএমইআই এনইআইআর তালিকায় বৈধ কি না যাচাই করুন। অবৈধ বা ক্লোন করা ফোন পরে বন্ধ হয়ে গেলে খদ্দের আপনার কাছেই ফিরে আসবে।
- 6এক্সেসরিজ পাইকারি বাজার থেকে অল্প অল্প করে তুলুন — চার্জার, কেব্ল, গ্লাস, কাভার, হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক। কোন মডেলের কাভার কত বিক্রি হলো তা লিখে রাখুন।
- 7সারানোর কাজ শিখুন বা একজন মিস্ত্রি বসান। স্ক্রিন বদল, চার্জিং পোর্ট, ব্যাটারি আর সফটওয়্যারের কাজেই দিনের আসল আয় হয়।
- 8গ্লাস ও কাভার লাগানোর কাজটা খদ্দেরের সামনেই করুন। এতে সে আবার আসে, আর ওই ছোট কাজগুলোই দোকান চালু রাখে।
- 9প্রতিদিন আলাদা করে লিখুন — ফোনে কত এল, এক্সেসরিজে কত, সারানোয় কত। এক মাস পর পরিষ্কার দেখতে পাবেন দোকান কোনটার উপর দাঁড়িয়ে আছে।
- 10রোজা ও দুই ঈদের আগে বাড়তি মাল তুলুন, আর ওই সময়েই বেশির ভাগ ফোন বিক্রি হয় ধরে হিসাব করুন।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিবেশি
- মেবেশি
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাস্বাভাবিক
- আগস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · রিয়াজউদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক পাইকারি বাজার আর বন্দরনগরীর বড় ক্রেতাগোষ্ঠী।
- খুব উপযোগীঢাকা · মোতালেব প্লাজা ও বসুন্ধরা সিটির মোবাইল মার্কেট থেকে সারা দেশের দোকান মাল তোলে; পাড়ায় পাড়ায় সারানোর কাজও সবচেয়ে বেশি।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক কারখানার লাখো শ্রমিক — সস্তা ফোন, চার্জার আর সারানোর কাজের চাহিদা সারা বছর।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি ও কারখানা এলাকা, ঢাকার পাইকারি বাজার একেবারে কাছে।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের জেলার ছোট দোকান এখান থেকে এক্সেসরিজ নেয়।
- সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কের ধারের বাজার ও প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা — দামি সেটের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
- সম্ভবখুলনা · বিভাগীয় শহর, আশপাশের উপজেলা থেকে মানুষ ফোন কিনতে ও সারাতে আসে।
- সম্ভবময়মনসিংহ · বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রছাত্রীর বড় বাজার, এক্সেসরিজ বেশি চলে।
- সম্ভবরংপুর · ফিচার ফোন ও সস্তা সেটের বাজার বড়, তবে দামি সেটের বিক্রি কম।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবার বেশি বলে দামি স্মার্টফোন ও এক্সেসরিজের চাহিদা ভালো।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: হ্যান্ডসেটে লাভ প্রায় নেই — দাম কোম্পানি বেঁধে দেয়, পাশের দোকানও একই দাম বলে, আর অনলাইনে আরও কমে পাওয়া যায়। যে দোকান শুধু ফোন তুলে বসে, তার পুঁজি শোকেসে আটকে থাকে আর মাস শেষে ভাড়ার টাকাও ওঠে না। এক্সেসরিজ ও সারানোর কাজ না থাকলে দোকান দাঁড়ায় না।
- মাঝারিচলতি মূলধন: মাল আগে কিনতে হয়, বিক্রি পরে। মডেল বদলে গেলে আগের মডেলের কাভার-গ্লাস আর কেউ নেয় না, আর স্মার্টফোনের দাম নতুন মডেল এলে কমে যায়। শোকেসে পড়ে থাকা মালই ছোট দোকানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: আমদানি ও সরবরাহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট ভাঙা ও আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করার দাবিতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। সরবরাহ বন্ধ হলে বা শর্ত বদলালে ছোট দোকানের হাতে বিকল্প থাকে না।
- মাঝারিঅন্যান্য: সারানোর কাজে ঝুঁকি আছে — খদ্দেরের ফোন খুলতে গিয়ে নষ্ট হলে বা তথ্য মুছে গেলে পুরো দায় দোকানের। দামি সেটের স্ক্রিন ভাঙলে ক্ষতিপূরণ কয়েক হাজার টাকা হতে পারে, যা একদিনের আয়ের চেয়ে অনেক বেশি।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: এনইআইআর চালু হওয়ায় অবৈধ, চোরাই বা ক্লোন করা আইএমইআইয়ের ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। চালু থাকা ফোনের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশই অনিবন্ধিত বা ধূসর বাজারের, তাই দোকানে পড়ে থাকা বহু সেটই ঝুঁকিতে। এমন একটা সেট বিক্রির পর বন্ধ হয়ে গেলে খদ্দের টাকা ফেরত চায়, আর দোকানকেই লোকসান দিতে হয়।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
সুপারি ব্যবসা
গৃহস্থের কাছ থেকে সুপারি কিনে হাটে বেচা, বা ভিজিয়ে-শুকিয়ে রেখে পরে বেচা। লক্ষ্মীপুরে অক্টোবর ২০২৫-এ কাউন ৳২,৫০০–২,৮০০, পোন ৳১৫০–২৫০।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ১ – ২৪০ দিন
কাপড় ও বুটিক দোকান
থান কাপড় ও বানানো পোশাকের দোকান। ঢাকায় সুতি কাপড় গজপ্রতি ৳৩০০–৭০০, আর বছরের বিক্রির বড় অংশ ওঠে রোজার শেষ দশ দিনে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৮ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
আলু মজুদ ও ব্যবসা
মৌসুমে আলু কিনে হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি। ভাড়া সরকার-নির্ধারিত কেজি ৳৬, কিন্তু ২০২৬ সালে ৬০ কেজির বস্তায় খরচ ৳১,১৫০–১,৩০০ আর বিক্রি ৳৮০০–৮৭০।
- পুঁজি
- ৳১.২ লাখ – ৳৬.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ১৫০ – ২৭০ দিন
মুদি দোকান
পাড়ার প্রতিদিনের জিনিস বিক্রির দোকান। কেজিতে লাভ কয়েক টাকা, তাই আয় নির্ভর করে পরিমাণে — আর দোকান বন্ধ হয় বাকির টাকা আটকে গিয়ে।
- পুঁজি
- ৳৮০ হাজার – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ১০ – ৩০ দিন
