মূল অংশে যান
  • আমাদের তথ্য কপিরাইট সংরক্ষিত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

সবজির দোকান ও সরবরাহ

ভোরে আড়ত থেকে কিনে সারা দিন খুচরা বিক্রি। ১৪-০৯-২০২৬ ঢাকায় আলু পাইকারি ৳১৫–২০, খুচরা ৳২৫–৩০; পেঁয়াজ পাইকারি ৳২৪–৪২, খুচরা ৳৪৫–৫৫ কেজি।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
শুরুর পুঁজি
৳১০,০০০ – ৳১,৫০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম বিক্রি
১ – ১৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠবে
১ – ২ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · সহজ

ব্যবসাটি কী

ভোরে পাইকারি আড়ত থেকে সবজি কিনে সারা দিন খুচরা বিক্রি করার কাজ। দোকান লাগে না-ও পারে — ভ্যান, ঝুড়ি বা বাজারের এক কোণাই যথেষ্ট, তাই পুঁজি কম লাগে। লাভ কত, সেটা এই ব্যবসায় আন্দাজ করতে হয় না, সরকারই দুই দিকের দর ছাপে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের হিসাবে ঢাকায় আলুর পাইকারি দর ছিল ৳১৫–২০ আর খুচরা ৳২৫–৩০ কেজি; দেশি পেঁয়াজের পাইকারি ৳২৪–৪২ আর খুচরা ৳৪৫–৫৫। অর্থাৎ এক কেজিতে হাতে থাকে ৳১০ থেকে ২১, শতাংশে ২৪ থেকে ৪৭। কিন্তু ওই টাকার পুরোটা লাভ নয়। যা পচে যায়, যা ওজনে কমে, যা সন্ধ্যায় পানির দামে ছেড়ে দিতে হয় — সব ওই ব্যবধানের ভেতর থেকেই যায়। টাকা প্রতিদিন নগদে আসে, আবার প্রতিদিন ভোরেই নতুন করে মাল কিনতে হয়। একদিন বিক্রি খারাপ হলে পরদিন আড়তে যাওয়ার টাকা থাকে না, আর দোকান খালি থাকলে খদ্দের পাশের দোকানে চলে যায়। শীতে সবজি সস্তা আর রকম বেশি, তখন বিক্রি বাড়ে। বর্ষায় সরবরাহ কমে, দাম লাফ দেয়, আর গরমে-ভেজায় নষ্টও হয় বেশি। যে ব্যবসায়ী প্রতিদিন কত কেজি ওঠে তা লিখে রাখে আর সেই অনুযায়ী কেনে, সে-ই টিকে থাকে; যে বেশি কিনে ফেলে, তার লাভ ঝুড়িতেই পচে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

বিষয়পরিসরসূত্রসংশোধন দিন
মাসিক চলতি মূলধন৳৫,০০০ – ৳৬৬,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳২৫ – ৳৫৫ / কেজিসরকারি সূত্র
পরিবর্তনশীল খরচ৳১৫ – ৳৪২ / কেজিসরকারি সূত্র
মোট লাভের হার২৪% – ৪৭%সরকারি সূত্র
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১ – ১৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়১ – ২ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৬০ – ৪০০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা, ঝুড়ি বা ক্রেট, চট বা ত্রিপল, পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, আর আড়তে যাওয়ার ভ্যান — নিজের বা ভাড়ার।যন্ত্রপাতি
  • প্রতিদিন নতুন করে কেনা মাল। আলু-পেঁয়াজ-কুমড়োর মতো টেকসই জিনিস আর শাক-টমেটো-শসার মতো একদিনের জিনিস — দুই ভাগে হিসাব রাখতে হয়।প্রাথমিক মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু হয়।লাইসেন্স
  • দেখে বোঝা কোন মাল আজ বিক্রি হবে আর কোনটা কাল পচবে, আর কেনার সময়েই পচা-ভালো আলাদা করে দাম ঠিক করা।দক্ষতা
  • একটা নির্দিষ্ট পাইকারি আড়ত আর সেখানে চেনা আড়তদার। ঢাকায় কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারসহ ১১টি বাজার থেকে সরকার প্রতিদিন পাইকারি দর নেয়।সরবরাহকারী
  • বাজারের ভেতরে বা লাগোয়া জায়গা, ছায়া ও পানিসহ। শুকনো মেঝে আর হাওয়া চলাচল না থাকলে দুই দিনেই মাল নষ্ট হয়।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1কোন আড়ত থেকে কিনবেন ঠিক করুন। ঢাকায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার, কাপ্তান বাজার, তেজগাঁও, মিরপুর-১ ও ২ সহ ১১টি বাজার থেকে প্রতিদিন পাইকারি দর নেয় — এই বাজারগুলোই মূল উৎস।
  2. 2দোকান খোলার আগে কয়েক দিন সকালে-বিকালে বাজারে দাঁড়িয়ে দেখুন কোন সবজি কত ওঠে। কোন পাড়ায় কী বেশি চলে, সেটাই আপনার কেনার তালিকা ঠিক করে দেবে।
  3. 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, আর লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী; কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কার্যদিবসে হয়।
  4. 4বাজারে জায়গা বা দোকান ঠিক করুন। ছায়া, পানি আর নিচে শুকনো মেঝে — এই তিনটাই পচা ঠেকায়। খোলা রোদে ঝুড়ি রাখলে দুপুরের মধ্যেই শাক শুকিয়ে যায়।
  5. 5ভোরে আড়তে যাওয়ার বাহন ঠিক করুন — নিজের ভ্যান, ভাড়ার ভ্যান বা কয়েকজন মিলে এক গাড়ি। ভাড়া প্রতি কেজিতে কত পড়ছে, সেটা কেনার সময়ই হিসাবে ধরুন।
  6. 6প্রতিদিন যাওয়ার আগে সরকারি দর দেখে নিন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিদিন পাইকারি ও খুচরা দুই দরই প্রকাশ করে, তাই আড়তদার বেশি চাইলে আপনি জানবেন।
  7. 7দিনে কত কেজি ওঠে তা খাতায় লিখুন, তারপর সেই অনুযায়ী কিনুন। আলু-পেঁয়াজের মতো টেকসই জিনিস বেশি নেওয়া যায়, শাক-টমেটো-শসার মতো জিনিস ঠিক মেপে নিতে হয়।
  8. 8দিনে দুই দরে বিক্রি করুন — সকালে টাটকা দরে, আর সন্ধ্যায় যা পড়ে আছে তা কমিয়ে ছেড়ে দিন। ফেলে দেওয়ার চেয়ে কম দামে বিক্রি ভালো।
  9. 9আশপাশের ভাতের হোটেল, মেস ও ক্যান্টিনে নিয়মিত সরবরাহের কথা বলুন। এতে প্রতিদিনের একটা নিশ্চিত পরিমাণ বিক্রি হয়, তবে বাকির শর্ত আগেই লিখে রাখুন।
  10. 10শীতের আগে টাকা জমিয়ে রাখুন। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সবজি সস্তা ও রকম বেশি, তখন বিক্রি সবচেয়ে ভালো — আর বর্ষায় টান পড়ে।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনকম
  7. জুলাকম
  8. আগকম
  9. সেপ্টেকম
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বড় শহর, বন্দর ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের ঘনত্ব; পাহাড়ি এলাকা থেকেও সবজি নামে।
  • খুব উপযোগীঢাকা · কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার, কাপ্তান বাজারসহ ১১টি পাইকারি বাজার থেকে প্রতিদিন মাল ওঠে, আর ঘন বসতির কারণে খুচরা চাহিদাও সবচেয়ে বেশি।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · কারখানার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ঘন বসতি; সস্তা ও টেকসই সবজির চাহিদা সারা বছর স্থিতিশীল।
  • খুব উপযোগীমুন্সীগঞ্জ · আলুর প্রধান উৎপাদন ও হিমাগার এলাকা, ঢাকার একেবারে গায়ে — কেনা সস্তা আর পরিবহন খরচ কম।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · ঢাকার আড়তের কাছে, ঘন বসতি আর অসংখ্য মেস ও কারখানার ক্যান্টিন — প্রতিদিনের বাঁধা বিক্রি।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের সবজি ও আলুর বাণিজ্যকেন্দ্র; মহাসড়কের পাশে হওয়ায় চালান ওঠানামা সহজ।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হোটেল ও স্থানীয় বাজারে নিয়মিত চাহিদা, আর নিজস্ব উৎপাদনও আছে।
  • সম্ভবযশোর · সবজি চাষের বড় এলাকা, ঢাকাগামী চালানের উৎস — স্থানীয়ভাবে কেনা সস্তা, তবে ক্রয়ক্ষমতা ঢাকার মতো নয়।
  • সম্ভবমানিকগঞ্জ · ঢাকার কাছের সবজি এলাকা; ভোরে তুলে সকালেই রাজধানীর আড়তে পৌঁছানো যায়।
  • সম্ভবরংপুর · শীতের সবজির বড় উৎস। মৌসুমে কেনা খুব সস্তা, তবে তখন স্থানীয় দামও পড়ে যায়।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনষ্ট হওয়া: শাক, টমেটো, শসা আর পাতাজাতীয় সবজি একদিনের জিনিস। বর্ষায় আর গরমে যা সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি হয় না তার অনেকটাই পরদিন আর পুরো দামে যায় না। কেজিতে যেখানে ৳১০–২১ ব্যবধান, সেখানে দিনে কিছু মাল নষ্ট হলেই সেই ব্যবধান মুছে যায় — তাই ঠিক পরিমাণে কেনাটাই আসল হিসাব।
  • বেশিচলতি মূলধন: প্রতিদিন ভোরে নগদ টাকা নিয়ে আড়তে যেতে হয়, আড়তে বাকি চলে না। একদিন বিক্রি খারাপ হলে পরদিন কেনার টাকা কমে যায়, দোকান আধা-খালি থাকে, আর খদ্দের পাশের দোকানে চলে যায়। একবার সেই চক্র শুরু হলে বেরোনো কঠিন।
  • মাঝারিচাহিদা: দাম নিজের হাতে নেই। ১৪-০৯-২০২৬ তারিখে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দরই ছিল ৳২৪ থেকে ৳৪২ — একই দিনে একই শহরে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধান। ভালো মাল কিনতে হলে ৳৪২ দিতে হয়, অথচ খুচরায় ৳৫৫-এর বেশি চাইলে খদ্দের নেয় না। তখন কেজিতে থাকে মাত্র ৳১৩।
  • মাঝারিবাকিতে বিক্রি: ভাতের হোটেল, মেস ও ক্যান্টিন নিয়মিত নেয় কিন্তু বাকিতে নেয় আর মাস শেষে দেয়। এদিকে আড়তে প্রতিদিন নগদ লাগে। বড় অঙ্কের বাকি পড়লে সকালের কেনাই আটকে যায়।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।

মিল আছে এমন ব্যবসা

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

গাঁইট কাপড়ের ব্যবসা

বিদেশি পুরনো কাপড় গাঁইট ধরে কিনে বেছে পিস হিসাবে বিক্রি। জ্যাকেটের গাঁইট ৳১৫,০০০, খুচরা পিস ৳২০–২,০০০; তবে গাঁইট বন্ধ অবস্থায় কিনতে হয়, ভেতরে কী আছে কেউ জানে না।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

ফেসবুক পেজে পোশাক বিক্রি

পাইকারি বাজার থেকে থ্রিপিস ও শাড়ি কিনে ফেসবুক লাইভে বিক্রি, কুরিয়ারে ডেলিভারি।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৭ – ২১ দিন
বাজারদর
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

পেঁয়াজ ও রসুন মজুদ ব্যবসা

মৌসুমে সস্তায় কিনে গুদামে রেখে দাম বাড়লে বিক্রি। কিন্তু দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫–৩০ শতাংশই পচে যায়, আর এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩০ শতাংশ।

পুঁজি
৳৭০ হাজার – ৳৪.৭ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৯০ – ২৫০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

মুদি দোকান

পাড়ার প্রতিদিনের জিনিস বিক্রির দোকান। কেজিতে লাভ কয়েক টাকা, তাই আয় নির্ভর করে পরিমাণে — আর দোকান বন্ধ হয় বাকির টাকা আটকে গিয়ে।

পুঁজি
৳৮০ হাজার – ৳৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
১০ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান