ঘড়ি মেরামত
হাতঘড়ি ও দেয়ালঘড়ি মেরামত। দেশে ঘড়ির বাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু পাটুয়াটুলীতে ৩০ টাকাতেও ঘড়ি মেলে — তাই সস্তা ঘড়ি কেউ সারায় না।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳৫,০০০ – ৳১,৫০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ২ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৭ – ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ০.৫ – ৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি কী
ঘড়ি মেরামত মানে ব্যাটারি বদলানো, স্ট্র্যাপ ও কাচ লাগানো, মেশিন খুলে পরিষ্কার করা আর দেয়ালঘড়ি সারানো। কাজটি ছোট হয়ে আসছে, কিন্তু মরে যায়নি। প্রথম আলোর হিসাবে দেশে ঘড়ির বাজার এখন ৩০০ কোটি টাকার ওপরে, আর এনবিআরের তথ্যে ২০২২ সালে ১১৫ কোটি টাকার হাতঘড়ি আমদানি হয়েছিল, ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৩৫ কোটি টাকা হয়। সমস্যাটা অন্য জায়গায়। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে পাঁচ শতাধিক ঘড়ির দোকান আছে, আর সেখানে পাইকারিতে ৩০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যেই হাতঘড়ি মেলে। যে ঘড়ি নতুন কিনতে দেড়শ টাকা লাগে, তা সারাতে কেউ একশ টাকা দিতে চাইবে না — এটাই এই পেশার মূল চাপ। তাই যাঁরা টিকছেন, তাঁরা দামি ঘড়ির দিকে গেছেন। বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ঘড়িই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, আর দেয়ালঘড়ির বাজারে রিদম ব্র্যান্ডের ঘড়ি দেড় হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এই ঘড়িগুলোর মালিক মেরামতের টাকা দেন, কারণ নতুন কেনা অনেক বেশি খরচ। শুরুর পুঁজি সামান্য — দারাজে ১৬ পিসের ঘড়ি মেরামতের সরঞ্জামের সেট ৳৭৯৯ টাকায় মেলে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৫,০০০ – ৳৬০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৬০ – ৳১,২০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২৫ – ৳৪৫০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৫৮% – ৬৩% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৭ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ০.৫ – ৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৭ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ২ – ১৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- ঘড়ি মেরামতের সরঞ্জামের সেট (দারাজে ১৬ পিসের সেট ৳৭৯৯), ঘড়ি-মোবাইল খোলার স্ক্রু ড্রাইভার সেট (৳১২৮–১৯০), আতশ কাচ বা লুপ, চিমটা, কেস প্রেস ও পরিষ্কারের দ্রবণ।যন্ত্রপাতি
- নানা মাপের ব্যাটারি, স্ট্র্যাপ (চামড়া ও ধাতু), কাচ, স্প্রিং বার, আর দেয়ালঘড়ির সাধারণ মেশিন। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীই সবচেয়ে বড় পাইকারি উৎস — সেখানে পাঁচ শতাধিক ঘড়ির দোকান আছে।প্রাথমিক মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। দোকানঘর বা বিপণিবিতানে জায়গা নিলে লাগে। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু।লাইসেন্স
- মেশিন খুলে পরিষ্কার করা ও জোড়া লাগানো, কোয়ার্টজ ঘড়ির দোষ ধরা, কাচ ও স্ট্র্যাপ মাপমতো বসানো। এটি এই তালিকার সবচেয়ে কঠিন দক্ষতার কাজগুলোর একটি, আর শেখা ছাড়া শুরু করা যায় না।দক্ষতা
- পাটুয়াটুলী, চকবাজার বা গুলিস্তানের পাইকারি বাজার। ঘড়ির বাজার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর, তাই যন্ত্রাংশের দামও ডলারের সঙ্গে ওঠানামা করে।সরবরাহকারী
- একটি ছোট কাউন্টার বা টেবিল, ভালো আলো আর দামি ঘড়ি রাখার নিরাপদ জায়গা। বিপণিবিতানের ভেতরে বা ঘড়ির দোকানের পাশে হলে খদ্দের নিজেই আসে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কাজটা শিখুন এবং কার কাছে শিখবেন তা ঠিক করুন। ঘড়ির মেশিন খোলা-লাগানো হাতে-কলমে শেখার কাজ, আর পুরোনো কারিগরের পাশে বসা ছাড়া শেখার আর পথ নেই।
- 2সরঞ্জাম কিনুন। শুরুতে বড় খরচের দরকার নেই — ১৬ পিসের ঘড়ি মেরামতের সেট ৳৭৯৯, আর ঘড়ি-মোবাইল খোলার ৫-ইন-১ স্ক্রু ড্রাইভার সেট ৳১৩০ থেকেই মেলে।
- 3জায়গা বাছুন। ঘড়ির দোকানের পাশে, বিপণিবিতানের ভেতরে বা বাজারের মোড়ে বসুন — যেখানে ঘড়ি বিক্রি হয়, সেখানেই মেরামতের খদ্দের আসে।
- 4পাটুয়াটুলীর পাইকারি বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক করুন। সারা দেশের খুচরা বিক্রেতারা সেখান থেকেই মাল তোলেন; ব্যাটারি, স্ট্র্যাপ, কাচ ও মেশিনও সেখানেই সবচেয়ে সস্তা।
- 5দামি ঘড়ির দিকে যান। বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ঘড়িই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় — এই ঘড়ির মালিকেরাই মেরামতের টাকা দেন, কারণ নতুন কেনা অনেক বেশি খরচ।
- 6দেয়ালঘড়ি ও টেবিলঘড়ির কাজ আলাদা করে ধরুন। রিদম ব্র্যান্ডের দেয়ালঘড়ি দেড় হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় আর টেবিলঘড়ি ৯৫০ থেকে ২৫ হাজার — এগুলো নষ্ট হলে মানুষ ফেলে দেয় না, সারায়।
- 7স্মার্ট ওয়াচের কাজ শিখে নিন। দেশে স্মার্ট ওয়াচের দাম আড়াই হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা আর তরুণদের মধ্যে ব্যবহার বাড়ছে; স্ট্র্যাপ ও কাচ বদলানোর কাজ এখান থেকেই আসবে।
- 8মেরামতের আগে দাম বলে নিন আর ঘড়ি রেখে গেলে রসিদ দিন। দামি ঘড়ি হারালে বা খোলার পর অন্য দোষ বেরোলে রসিদ ছাড়া ঝামেলা মেটানো যায় না।
- 9মেরামতের পাশাপাশি স্ট্র্যাপ, ব্যাটারি আর সস্তা দেয়ালঘড়ি বিক্রি করুন। শুধু মেরামতে দোকানের ভাড়া ওঠে না, আর বিক্রি থেকেই খদ্দের মেরামতের কথা জানে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাস্বাভাবিক
- আগস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বড় শহর ও বন্দর; বিপণিবিতানে ঘড়ির দোকানের সংখ্যা বেশি, দামি ঘড়ির খদ্দেরও আছে।
- খুব উপযোগীঢাকা · পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে পাঁচ শতাধিক ঘড়ির দোকান, তার মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রায় ১০০টি; চকবাজার ও গুলিস্তানেও পাইকারি বাজার আছে। যন্ত্রাংশ ও খদ্দের দুই-ই এখানে সবচেয়ে কাছে।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের জেলা থেকে মেরামতের কাজ এখানে আসে।
- সম্ভবগাজীপুর · ঘন বসতি ও কারখানার কর্মী; তবে বেশির ভাগ ঘড়ি সস্তা, তাই মেরামতের চেয়ে ব্যাটারি-স্ট্র্যাপের কাজই বেশি।
- সম্ভবখুলনা · বিভাগীয় শহর; বিপণিবিতানে ঘড়ির দোকানের পাশে কাজ পাওয়া যায়।
- সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঢাকার পাইকারি বাজার কাছেই, আর ঘন বসতির কারণে খুচরা কাজও মেলে।
- সম্ভবরাজশাহী · বিভাগীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শহর; দেয়ালঘড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ঘড়ি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ মেলে।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের হাতে বিদেশ থেকে আনা দামি ঘড়ি থাকে, আর সেগুলো সারানোর লোক কম — এখানেই সুযোগ।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: সস্তা ঘড়িই এই পেশার সবচেয়ে বড় শত্রু। পাটুয়াটুলীতে পাইকারিতে ৩০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হাতঘড়ি মেলে, আর নন-ব্র্যান্ড ঘড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে চীন থেকে। যে ঘড়ি নতুন কিনতে কয়েকশ টাকা, সেটি সারাতে কেউ মজুরি দিতে রাজি হয় না — ফেলে দিয়ে নতুন কেনাই সস্তা। ফলে মেরামতের কাজ ক্রমশ শুধু দামি ঘড়ির মধ্যে সীমিত হয়ে আসছে, আর সেই খদ্দেরের সংখ্যা কম।
- বেশিনির্ভরশীলতা: যন্ত্রাংশ পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ঘড়ি আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিলাসী পণ্য হিসেবে ঘড়ি আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা আছে, আর ডলারের দাম বাড়ায় ঘড়ির দামও বেড়েছে; দুই বছরে ব্যবসার খরচ বেড়েছে প্রায় ১৫–২০ শতাংশ। কারিগর মজুরি সেই হারে বাড়াতে পারেন না, তাই চাপটা তাঁর ঘাড়েই পড়ে। দেশে হাতঘড়ির কোনো ব্র্যান্ড তৈরি হয়নি, তাই বিকল্প উৎসও নেই।
- বেশিঅন্যান্য: গ্রাহকের ঘড়ি নষ্ট বা হারানোর দায়। দামি ঘড়ি খুলে আবার ঠিকমতো লাগাতে না পারলে বা কোনো অংশ হারিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কয়েক মাসের আয়ের সমান হতে পারে — রাজধানীর বিক্রয়কেন্দ্রে ৫০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দামের ঘড়িও বিক্রি হয়। রসিদ ছাড়া কাজ নিলে এই ঝুঁকি সামলানোর কোনো উপায় থাকে না।
- মাঝারিঅন্যান্য: কারিগর তৈরি হচ্ছে না। কাজটি শিখতে বছরের পর বছর লাগে অথচ আয় কম, তাই নতুন কেউ আসছে না। একজন কারিগর অসুস্থ হলে দোকান বন্ধ, আর তাঁর শেখানোর মতো কেউ না থাকলে দোকানটির সঙ্গে দক্ষতাটিও শেষ হয়ে যায়।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
বাসা মেরামত ও হ্যান্ডিম্যান সেবা
বাসায় গিয়ে ফ্যান, লাইন, কল-পাইপ ও আসবাবের ছোট মেরামত। প্ল্যাটফর্মে একেকটি কাজ ৳৩০০–৮০৫, তবে সেখানে কমিশনের হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।
- পুঁজি
- ৳৫ হাজার – ৳৬০ হাজার
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৩ – ৩০ দিন
মেহেদি ও ব্রাইডাল সেবা
বিয়ে, গায়েহলুদ ও ঈদে মেহেদির নকশা ও কনের সাজ। ঢাকায় উৎসবের মেহেদি ৳১,২২৫–১,৬২৫ আর ব্রাইডাল ৳৩,৯০০–৫,৫২৫ প্রতিজন।
- পুঁজি
- ৳৩ হাজার – ৳৫০ হাজার
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১ – ৩০ দিন
চাবি ও তালা সেবা
চাবি বানানো, তালা সারানো ও আটকে যাওয়া দরজা খোলা। চাবি ৳২৫–২০০, বাড়িতে ডাক পড়লে ৳২৫০–৫০০; ভালো দিনে হাজার টাকা, খারাপ দিনে কিছুই না।
- পুঁজি
- ৳৩ হাজার – ৳৪০ হাজার
- জনবল
- ১ – ২ জন
- প্রথম আয়
- ১ – ৭ দিন
জুতা মেরামত
জুতা সেলাই, সোল লাগানো ও পলিশ। সিলেটে পলিশ ৳৩০, দিনে আয় ৳৪০০–৫০০; লঞ্চে কাজ করা একজনের কোনো দিন ৳৭০০, কোনো দিন ৳২০০-ও নয়।
- পুঁজি
- ৳২ হাজার – ৳৩০ হাজার
- জনবল
- ১ – ২ জন
- প্রথম আয়
- ১ – ৭ দিন
