খেজুর ও আখের গুড়
শীতের তিন মাসে খেজুর বা আখের রস জ্বাল দিয়ে গুড় ও পাটালি বানিয়ে বিক্রি। যশোরে গুড় ৳৩৪০ কেজি, পাটালি ৳৫০০ পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় লড়াই দামের নয়, ভেজালের।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳২৫,০০০ – ৳২,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৪০ – ৬০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ৩.৫ – ১৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি কী
শীতে খেজুরগাছ চেঁছে রস নামানো, সেই রস বড় তাফালে জ্বাল দিয়ে ঝোলা গুড় বা পাটালি বানানো, আর হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি — তিন মাসের কাজ যা সারা বছরের কিছু টাকা এনে দেয়। আখের গুড়ও একই কাজ, শুধু রস আসে আখ মাড়াই কল থেকে। কাজ শুরু হয় কার্তিক মাসে গাছ ছাঁটা দিয়ে, রস নামে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি থেকে, আর বেচাকেনা চলে চৈত্রের আগপর্যন্ত। যশোরের খেজুরের গুড় ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে, আর মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে জিআই সনদ পেয়েছে। ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে যশোরে মৌসুম শুরুর দিন কৃষি বিভাগের হিসাব ছিল — জেলায় রস দেওয়ার উপযোগী গাছ ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি, গাছি অন্তত ছয় হাজার, প্রতি লিটার রস ৳৩৫ আর প্রতি কেজি গুড় ৳৩৪০। আগের মৌসুমে যশোরেই তরল গুড় বিক্রি হয়েছে ৳৪০০ কেজি আর পাটালি গড়ে ৳৫০০। এখানেই গোলমালটা। চিনি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ছিল ৳১১০–১১৫ কেজি, আর গুড় তার তিন-চার গুণ — তাই চিনি, চিটাগুড়, ময়দা, সোডা, হাইড্রোজ আর রং মিশিয়ে নকল গুড় বানানো লাভজনক। ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ফরিদপুর সদরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাড়ে ছয় হাজার কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস করেছে, যা ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে যেত। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মানিকগঞ্জে এক কারখানায় রস ছাড়াই গুড় বানানো ধরা পড়েছে। যে গাছি আসল গুড় বানান, তাঁকে এই নকলের সঙ্গেই দাম নিয়ে লড়তে হয়।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮,০০০ – ৳৫০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৩৪০ – ৳৫০০ / কেজি | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২১০ – ৳৩০০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ১২% – ৫৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৪০ – ৬০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৩.৫ – ১৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ১ – ১৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ১৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৪ – ৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- গাছ চাঁছার দা ও দড়ি, নলি, মাটির ঠিলা, ছাঁকনি, বড় তাফাল, নাড়ার হাতা, পাটালির ছাঁচ, আর ওজনের পাল্লা। ঠিলার মুখে দেওয়ার জাল বা নেটও লাগে।যন্ত্রপাতি
- মৌসুমের জ্বালানি — খেজুর পাতা, গাছের ছাঁট ও খড়। রস জ্বাল দিতে টানা দুই-তিন ঘণ্টা আগুন লাগে, তাই জ্বালানিই সবচেয়ে বড় চলতি খরচ।প্রাথমিক মাল
- ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইন মানা। ভেজাল গুড় বানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাল জব্দ ও ধ্বংস করে এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হয় — ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ফরিদপুর সদরে এভাবেই সাড়ে ছয় হাজার কেজি গুড় ধ্বংস হয়েছে।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কার্যদিবস, প্রতি বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে নিবন্ধন — নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান) প্রবিধানমালা, ২০২৬ (গেজেট ১৬ জুলাই ২০২৬)। প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদকের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, নতুন ৳১,০০০ ও নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফি ৳১,০০০–৫,০০০।লাইসেন্স
- গাছ চাঁছার কাজ। কোন গাছ কতটা চাঁছতে হবে, কত দিন পরপর, আর কখন গাছকে বিশ্রাম দিতে হবে — এটা শেখানো যায় না, দেখে দেখে শিখতে হয়। যশোরে অন্তত ছয় হাজার মানুষ এই পেশায়।দক্ষতা
- গাছের মালিক (বন্দোবস্তের জন্য), কুমার (ঠিলার জন্য), আর গুড়ের আড়তদার বা পাইকার। যশোরের খাজুরা ও চৌগাছা অঞ্চলের হাট এই ব্যবসার কেন্দ্র।সরবরাহকারী
- জ্বালঘর — চুলা, তাফাল, ধোঁয়া বের হওয়ার ব্যবস্থা, পানির উৎস আর ঠিলা ও জ্বালানি রাখার জায়গা। গাছের বাগানের কাছেই হওয়া ভালো, কারণ ভোরের রস দেরি হলে টকে যায়।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কার্তিক মাসে গাছ ঠিক করুন। নিজের গাছ না থাকলে মালিকের সঙ্গে মৌসুমের জন্য বন্দোবস্ত করুন — কত গাছ, কী হারে ভাগ বা ভাড়া, লিখে রাখুন।
- 2গাছ ছাঁটুন ও নলি বসান। এই কাজটাই আসল দক্ষতা: বেশি চাঁছলে গাছ মরে যায়, কম চাঁছলে রস কম। একজন ভালো গাছি তিন-চার বছরে তৈরি হন।
- 3ঠিলা (মাটির কলস) ধুয়ে-পুড়িয়ে পরিষ্কার করে বিকেলে গাছে বাঁধুন, ভোরে নামান। রস টক হয়ে গেলে গুড় জমবে না, তাই দেরি করা চলে না।
- 4ঠিলার মুখে জাল বা নেট বেঁধে দিন যাতে রাতে বাদুড় মুখ দিতে না পারে। বাদুড়ের লালা মেশা কাঁচা রস থেকে নিপাহ ছড়ায় — এই একটা খবরেই গোটা এলাকার কাঁচা রসের বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
- 5জ্বালঘরে চুলা ও তাফাল বসান, আর মৌসুমের জ্বালানি (খেজুর পাতা, গাছের ছাঁট, খড়) আগেই জমিয়ে রাখুন। রোজ কিনতে গেলে খরচ বাড়ে।
- 6রস ছেঁকে টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা জ্বাল দিন। ঘন হয়ে এলে ঝোলা গুড় নামান, আর পাটালি বানাতে হলে নাড়তে নাড়তে ছাঁচে ঢালুন।
- 7কাঁচা রস আলাদা করে বিক্রি করবেন কি না ঠিক করুন। রস ৳৩৫ লিটারে সঙ্গে সঙ্গে টাকা আনে, কিন্তু গুড় করলে কেজি ৳৩৪০–৫০০ — আর নিপাহর ঝুঁকিও গুড়ে নেই।
- 8চিনি, চিটাগুড়, ময়দা, সোডা, ফিটকিরি, হাইড্রোজ বা রং মেশাবেন না। ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত মাল ধ্বংস করে দেয়, আর এলাকার গুড়ের বদনাম হলে আসল গুড়ের দামও পড়ে যায়।
- 9নাম, ঠিকানা, তৈরির তারিখ আর ওজন লেখা মোড়কে গুড় ভরুন এবং প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদক হিসেবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে নিবন্ধন করান — নিবন্ধন ফি ৳১,০০০, মেয়াদ তিন বছর।
- 10হাটের দিন ঠিক করে পাইকারের সঙ্গে দর কষুন, আর অগ্রিম নেওয়া থাকলে সেটা কত কেজিতে সমন্বয় হবে আগেই বলে নিন।
- 11চৈত্রের পর গুড় গলে যায় ও ছাতা পড়ে। যা বিক্রি হয়নি তা ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন, আর মৌসুমের আয় থেকে সারা বছরের খরচ ভাগ করে রাখুন।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিকম
- মেকম
- জুনকম
- জুলাকম
- আগকম
- সেপ্টেকম
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীফরিদপুর · বৃহত্তর ফরিদপুর গুড়ের বড় বাণিজ্যকেন্দ্র — এখান থেকেই ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে গুড় যায়; একই কারণে ভেজাল কারখানাও এখানে, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সদরের মাচ্চরে সাড়ে ছয় হাজার কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস হয়েছে।
- খুব উপযোগীযশোর · দেশের খেজুর গুড়ের কেন্দ্র — ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে যশোরের খেজুরের গুড় জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে; ২ নভেম্বর ২০২৫-এ জেলায় রস দেওয়ার উপযোগী গাছ ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি আর গাছি অন্তত ছয় হাজার। চৌগাছা ও খাজুরা অঞ্চলের হাটই বড় বাজার।
- খুব উপযোগীমানিকগঞ্জ · হরিরামপুরের ঝিটকা অঞ্চলের হাজারি গুড় ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে জিআই সনদ পেয়েছে (জিআই-৬২); বাল্লা, গোপীনাথপুর, কাঞ্চনপুর ও গালা ইউনিয়নের ৩০–৩২টি গাছি পরিবার এটি বানায় আর দাম কেজি ৳২,২০০ পর্যন্ত ওঠে।
- সম্ভববগুড়া · শাজাহানপুর উপজেলার খাদাশের মতো গ্রামে পাটালি গুড় হয়; অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি থেকে রস নামে আর দুই-তিন ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে পাটালি বানানো হয় (২২-১২-২০২৫)। উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় পাইকারি বাজারও কাছে।
- সম্ভবচাঁপাইনবাবগঞ্জ · আখের গুড়ের এলাকা — জেলায় ৫,৪০০ হেক্টরে আখ হয়, শুধু শিবগঞ্জেই ৪,৮৮০ হেক্টর। তবে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আসা আমদানি করা অপরিশোধিত চিনি আখের রসে মেশানোর অভিযোগ এখানেই সবচেয়ে বেশি (২০-১১-২০২৪)।
- সম্ভবঢাকা · সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাজার, শীতে পিঠা ও মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে; জিআই স্বীকৃত গুড় নাম-ঠিকানাসহ মোড়কে বিক্রি করলে এখানেই সবচেয়ে ভালো দাম মেলে।
- সম্ভবঝিনাইদহ · যশোরের খেজুরগাছের বলয়ের লাগোয়া জেলা, যশোর-ঝিনাইদহ সড়ক ধরে একই পাইকারি বাজারে মাল যায়। তবে এই জেলার গাছ, গাছি বা দরের আলাদা সরকারি হিসাব এই গবেষণায় মেলেনি।
- সম্ভবরাজশাহী · গুড়ের বড় ভোক্তা বাজার — ফরিদপুরে ধরা পড়া ভেজাল গুড়ের চালান ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহীর বাজারেই যেত, অর্থাৎ এখানে চাহিদা আছে আর যাচাইয়ের সুযোগও আছে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: ভেজাল গুড় এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সমস্যা, আর সেটা দুই দিক থেকে কাটে। ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাড়ে ছয় হাজার কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস করেছে — নিম্নমানের চিটাগুড়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরি, নন-ফুডগ্রেড রং, পচা মিষ্টি, ময়দা, সোডা ও চিনি মিশিয়ে তা বানানো হচ্ছিল, আর যেত ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে একজন রস ছাড়াই দিনে ১০–১৫ কেজি 'খেজুরের গুড়' বানাচ্ছিলেন। ধরা পড়লে মাল ধ্বংস আর ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা; না ধরা পড়লেও ক্রেতা আসল-নকল আলাদা করতে না পেরে সব গুড়েই সন্দেহ করে।
- বেশিনির্ভরশীলতা: চিনির দামই নকল গুড়ের অঙ্ক ঠিক করে দেয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চিনি ছিল ৳১১০–১১৫ কেজি, আর গুড় ৳৩৪০–৫০০। এই ব্যবধান যত বড়, চিনি গলিয়ে গুড় বানানো তত লাভজনক, আর আসল গাছিকে তত কম দামে বিক্রি করতে চাপ দেওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ১০–১৫ ট্রাক অপরিশোধিত চিনি-গুড় আসে, যার একটা অংশ আখের রসে মেশানো হয় (২০-১১-২০২৪)।
- বেশিচাহিদা: মৌসুম তিন মাসের। কার্তিকে গাছ ছাঁটা, অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি থেকে রস, আর চৈত্র এলে শেষ। বাকি নয় মাস এই ব্যবসা থেকে কোনো আয় নেই, অথচ সংসার বারো মাসই চলে। মৌসুমের আয় ভাগ করে না রাখলে গ্রীষ্মে ধারদেনা করতে হয়, আর পরের কার্তিকে গাছ বন্দোবস্ত করার টাকাই থাকে না।
- মাঝারিঅন্যান্য: কাঁচা রসের সঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি জড়িয়ে আছে — রাতে ঠিলায় বাদুড় মুখ দিলে লালা রসে মেশে। জ্বাল দেওয়া গুড়ে এই ঝুঁকি থাকে না, কিন্তু শীতে একটি সংক্রমণের খবর বেরোলে গোটা এলাকায় কাঁচা রসের বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। যিনি রসের উপরেই নির্ভর করেন, তাঁর মৌসুম ওই এক খবরেই শেষ হতে পারে।
- মাঝারিনষ্ট হওয়া: রস ভোরে না নামালে টকে যায় আর সেই রসে গুড় জমে না — সেদিনের পুরো শ্রম নষ্ট। তৈরি গুড়ও গরম ও ভেজা আবহাওয়ায় গলে যায় ও ছাতা পড়ে, তাই চৈত্রের পর ধরে রাখা মাল ঝুঁকিপূর্ণ। কত শতাংশ নষ্ট হয়, তার কোনো হিসাব এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
মুড়ির কারখানা
চাল ভেজে মুড়ি বানিয়ে বিক্রি। এক কেজি চালে মুড়ি হয় ৯০০ গ্রাম, মোটা চাল ৳৫০–৫৫ কেজি — তাই মেশিনের মুড়িতে কেজিতে থাকে ৪–৬ টাকা, আর হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি পাইকারি ৳৯০ কেজি।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳২ লাখ
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
আচার তৈরি
আম-জলপাই-রসুনের আচার বানিয়ে বয়ামে বিক্রি। দোকানে ব্র্যান্ডের আচার কেজি ৳৩৭৫–৫২৫, আর মোড়কে বিক্রি করলে ঘরের রান্নাঘরেও ৳১,০০০-এর নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন লাগে।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳৯০ হাজার
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৪ – ২৮ দিন
চায়ের দোকান ও ক্যাফে
এক কেজি চা পাতায় প্রায় ২৫০ কাপ; কাপ বিক্রি হয় ৳৫–৩০। ২০ হাজার টাকায় চুলা-সিলিন্ডার-কাপ আর সপ্তাহখানেকের মাল হয়, দোকানের জামানত বা ফ্রিজ হয় না।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
খই ও বাতাসা তৈরি
ধান ভেজে খই আর চিনি-গুড় জ্বাল দিয়ে বাতাসা-কদমা বানানো। চিনির পাইকারি ৳১০২–১০৩ কেজি, বাতাসা বিক্রি ৳১৯০–৩০০ কেজি। পুঁজি খুব কম, বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স লাগে না।
- পুঁজি
- ৳১৫ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ১০ – ৪০ দিন
