মুড়ির কারখানা
চাল ভেজে মুড়ি বানিয়ে বিক্রি। এক কেজি চালে মুড়ি হয় ৯০০ গ্রাম, মোটা চাল ৳৫০–৫৫ কেজি — তাই মেশিনের মুড়িতে কেজিতে থাকে ৪–৬ টাকা, আর হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি পাইকারি ৳৯০ কেজি।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳২০,০০০ – ৳২,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৭ – ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠবে
- ১.৫ – ৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · সহজ
ব্যবসাটি কী
চাল ভেজে মুড়ি বানিয়ে বিক্রি করার কাজ। বালু গরম করে তাতে লবণ-পানি মাখানো চাল ছেড়ে দিলে চাল ফুলে মুড়ি হয়ে যায় — পুরো ব্যাপারটা আধা মিনিটের। এই ব্যবসার একটাই হিসাব মনে রাখতে হয়: এক কেজি চালে মুড়ি হয় প্রায় ৯০০ গ্রাম। তার মানে এক কেজি মুড়ি বানাতে সোয়া কেজির মতো চাল লাগে। মোটা চাল এখন ৳৫০–৫৫ কেজি, তাই শুধু চালেই এক কেজি মুড়ির পেছনে ৳৫৬–৬১ চলে যায়। এর সঙ্গে ভাজার মজুরি আর জ্বালানি যোগ করলে বোঝা যায় কেন মেশিনের মুড়ি বেচে কেজিতে মাত্র ৪–৬ টাকা থাকে। যারা টিকে আছে তারা দুইভাবে টিকে আছে — হয় অনেক বেশি পরিমাণে ভেজে, নয়তো হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি বানিয়ে। ইউরিয়া বা হাইড্রোজ ছাড়া শুধু লবণ-পানি দিয়ে ভাজা মুড়ি ঝালকাঠিতে পাইকারি ৳৯০ আর খুচরা ৳১২০ কেজি বিক্রি হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, আর পাবনার মুলাডুলির মুড়ি স্থানীয় বাজারেই ৳১৬০, ঢাকা-চট্টগ্রামের সুপারশপে ৳২০০। একই সময়ে মেশিনে ভাজা প্যাকেটের মুড়ি ৳৬০–৭০। তফাতটা খাঁটি বলে পরিচিতি পাওয়ার তফাত। রোজার মাসে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, আর বছরের বাকি সময় বিক্রি স্বাভাবিক থাকে। বর্ষায় মুড়ি ভিজে নেতিয়ে যায়, তাই তখন কাজ কমে। পুঁজি কম লাগে, কিন্তু চাল কেনার টাকা প্রতি মাসেই লাগে — দিনে দুই মণ চাল ভাজলে মাসে ৫০ মণ চাল কিনতে হয়। আর প্যাকেট করে বিক্রি করতে চাইলে মুড়ি বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় আছে, সিএম লাইসেন্স ছাড়া প্যাকেটে নাম-ঠিকানা বসিয়ে বিক্রি করা যায় না।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১,০০,০০০ – ৳১,৬০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৬০ – ৳১৬০ / কেজি | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৬৫ – ৳১০০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৭% – ৩৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৭ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১.৫ – ৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৩ – ১৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ১০% | অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৪০ – ৭৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- মাটির বা ইটের চুলা, বড় লোহার কড়াই, ভাজার বালু, চালুনি, লবণ-পানি মাখানোর গামলা, ওজনের পাল্লা আর মুড়ি রাখার বড় প্লাস্টিকের ড্রাম বা টিন।যন্ত্রপাতি
- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন — মোড়কজাত খাদ্য উৎপাদকের জন্য বাধ্যতামূলক। নতুন নিবন্ধন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ ৩ বছর (খাদ্য নিরাপদ (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬)।লাইসেন্স
- বিএসটিআই সিএম (সার্টিফিকেশন মার্কস) লাইসেন্স — 'Muri (puffed rice)' বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ৬৯ নম্বরে, মান BDS 1796:2008। নিজের নামে মোড়কে বিক্রি করতে হলে এটি লাগবে। ফি যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০।লাইসেন্স
- বালুর তাপ চোখে বুঝে নেওয়া। বালু বেশি গরম হলে মুড়ি পুড়ে যায়, কম হলে ফোলে না আর ওজন মার যায়।দক্ষতা
- মুড়ির উপযোগী মোটা চালের নিয়মিত সরবরাহকারী, জ্বালানি কাঠ বা তুষের যোগান, আর বস্তা-প্যাকেটের দোকান।সরবরাহকারী
- ধোঁয়া বেরোনোর ব্যবস্থাসহ চালাঘর বা টিনের ঘর, আর আলাদা একটি শুকনা মজুত ঘর। মুড়ি বাতাস থেকে জল টানে, তাই ভেজা ঘরে রাখা যায় না।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1আগে ঠিক করুন কোন মুড়ি বানাবেন — মেশিনে ভাজা সস্তা মুড়ি, নাকি হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি। দাম আর ক্রেতা দুটোই আলাদা।
- 2মুড়ির উপযোগী চাল কোথায় পাওয়া যায় তা খোঁজ করুন। মুলাডুলির কারিগরেরা বরিশাল ও নোয়াখালী থেকে আনা মোটা ও ঘিগজ চাল ব্যবহার করেন।
- 3চুলা, বড় কড়াই, ভাজার বালু, চালুনি আর মজুত রাখার শুকনা ঘর ঠিক করুন। ভেজা ঘরে মুড়ি এক রাতেই নেতিয়ে যায়।
- 4ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন।
- 5বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকারী হিসেবে নিবন্ধন করুন — ফি ৳১,০০০, মেয়াদ ৩ বছর।
- 6নিজের নামে প্যাকেট করে বিক্রি করতে চাইলে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স নিন। মুড়ি বাধ্যতামূলক তালিকার ৬৯ নম্বর পণ্য, মান BDS 1796:2008।
- 7প্রতিদিন কত কেজি চাল ঢুকল আর কত কেজি মুড়ি বের হলো তা লিখে রাখুন। ৯০০ গ্রামের নিচে নামলে বুঝবেন চাল বা বালুর তাপে গণ্ডগোল।
- 8পাড়ার মুদি দোকান ও বাজারের পাইকারের সঙ্গে সপ্তাহে কত কেজি লাগবে তা ঠিক করে নিন, আর টাকা কবে পাবেন সেটাও।
- 9ইউরিয়া বা হাইড্রোজ দেবেন না। মুড়ি সাদা ও মচমচে করতে এসব মেশানো নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৩ ধারায় নিষিদ্ধ, আর খাঁটি মুড়ির দামই বেশি।
- 10রোজার অন্তত দুই মাস আগে থেকে চাল মজুত করুন আর কারিগর ঠিক করে রাখুন — ওই এক মাসেই বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রি।
- 11বর্ষায় উৎপাদন কমিয়ে দিন। ভেজা বাতাসে মুড়ি নরম হয়ে যায় আর ফেরত আসে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাকম
- আগকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীকুমিল্লা · ছয় দশক ধরে চলা 'মুড়ি গ্রাম'; রোজায় ৫০–৬০ মণ মুড়ি ভাজা হয় আর পাইকারের কাছে সরাসরি বিক্রি হয়।
- খুব উপযোগীঢাকা · কারওয়ান বাজারসহ বড় পাইকারি বাজার এখানেই, আর সুপারশপে খাঁটি মুড়ি ৳২০০ কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়।
- খুব উপযোগীঝালকাঠি · ২০টি গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার মুড়ি ভাজে, প্রতিদিন শতাধিক মণ মুড়ি দেশের নানা জায়গায় যায়।
- খুব উপযোগীপাবনা · ঈশ্বরদীর মুলাডুলিসহ সাত গ্রামে হাতে ভাজা মুড়ির পুরোনো ক্লাস্টার; সেখানকার মুড়ি স্থানীয় বাজারে ৳১৬০ কেজি বিক্রি হয় আর হজের মৌসুমে বিদেশেও যায়।
- সম্ভববরিশাল · মুড়ির উপযোগী মোটা চালের উৎস; কাঁচামাল কাছেই বলে খরচ কম পড়ে।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; চাল সস্তা আর পাইকারি নেটওয়ার্ক শক্ত।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · সুপারশপে খাঁটি মুড়ির চড়া দাম মেলে, আর নগরের চাহিদা বড়।
- সম্ভবনাটোর · পাবনার ক্লাস্টারের পাশে, চাল ও পাইকারি যোগাযোগ একই।
- সম্ভবনোয়াখালী · মুড়ির চাল এখান থেকেও যায়; স্থানীয়ভাবে ভাজলে পরিবহন খরচ বাঁচে।
- সম্ভবটাঙ্গাইল · মুড়ি ভাজার পুরোনো পরিবার আছে আর শহরের বাজারে মণ ধরে বিক্রি হয়।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: লাভ কেজিতে মাত্র কয়েক টাকা, তাই টাকা আসে পরিমাণ থেকে। কুমিল্লার মুড়ি গ্রামে খরচ বাদ দিয়ে কেজিতে থাকে ৪ থেকে ৬ টাকা। এদিকে চাল কিনতে হয় আগে, টাকা আসে পরে। দিনে দুই মণ চাল ভাজলে মাসে ২০০০ কেজি চাল কিনতে হয়, অর্থাৎ ৳১,০০,০০০–১,৬০,০০০ সব সময় চালেই আটকে থাকে। চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়লে পুরো মাসের লাভ চলে যায়।
- বেশিচাহিদা: বছরের বিক্রির বড় অংশ রোজার এক মাসে। ওই সময় চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, আর ঈদের পর হঠাৎ নেমে যায়। রোজার আগে বেশি চাল কিনে রাখলে আর বিক্রি আশানুরূপ না হলে সেই চাল পড়ে থাকে, আর মুড়ি বেশি দিন রাখা যায় না।
- মাঝারিনষ্ট হওয়া: মুড়ি বাতাস থেকে জল টেনে নেতিয়ে যায়। বর্ষাকালে ও ভেজা গুদামে এই ক্ষতি সবচেয়ে বেশি, আর নেতানো মুড়ি দোকানদার ফেরত দেন। বস্তার নিচের ভাঙা মুড়িও অর্ধেক দামে ছাড়তে হয়।
- মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: মুড়ি সাদা ও মচমচে দেখাতে অনেকে ইউরিয়া বা হাইড্রোজ মেশান। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩ ধারায় মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক খাদ্যে মেশানো নিষিদ্ধ, আর ২৩ ধারার অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য। ধরা পড়লে জরিমানা দিয়ে মিটিয়ে ফেলার সুযোগ নেই, মামলা খাদ্য আদালতে যায়।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: মেশিনের কারখানার সঙ্গে দামে পারা যায় না। ঝালকাঠির হাতে ভাজা কারিগরেরা ৫০ কেজি চাল ভেজে পান ৳৪০০, আর মেশিনের মুড়ি সস্তায় বাজার দখল করে নিচ্ছে। খাঁটি বলে আলাদা পরিচিতি বানাতে না পারলে এই কাজ ধীরে ধীরে মজুরির কাজে নেমে আসে।
সূত্র
- সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: মাসিক চলতি মূলধন, পরিবর্তনশীল খরচ · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
আচার তৈরি
আম-জলপাই-রসুনের আচার বানিয়ে বয়ামে বিক্রি। দোকানে ব্র্যান্ডের আচার কেজি ৳৩৭৫–৫২৫, আর মোড়কে বিক্রি করলে ঘরের রান্নাঘরেও ৳১,০০০-এর নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন লাগে।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳৯০ হাজার
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৪ – ২৮ দিন
চায়ের দোকান ও ক্যাফে
এক কেজি চা পাতায় প্রায় ২৫০ কাপ; কাপ বিক্রি হয় ৳৫–৩০। ২০ হাজার টাকায় চুলা-সিলিন্ডার-কাপ আর সপ্তাহখানেকের মাল হয়, দোকানের জামানত বা ফ্রিজ হয় না।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
খেজুর ও আখের গুড়
শীতের তিন মাসে খেজুর বা আখের রস জ্বাল দিয়ে গুড় ও পাটালি বানিয়ে বিক্রি। যশোরে গুড় ৳৩৪০ কেজি, পাটালি ৳৫০০ পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় লড়াই দামের নয়, ভেজালের।
- পুঁজি
- ৳২৫ হাজার – ৳২ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ৪০ – ৬০ দিন
খই ও বাতাসা তৈরি
ধান ভেজে খই আর চিনি-গুড় জ্বাল দিয়ে বাতাসা-কদমা বানানো। চিনির পাইকারি ৳১০২–১০৩ কেজি, বাতাসা বিক্রি ৳১৯০–৩০০ কেজি। পুঁজি খুব কম, বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স লাগে না।
- পুঁজি
- ৳১৫ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ১০ – ৪০ দিন
