আচার তৈরি
আম-জলপাই-রসুনের আচার বানিয়ে বয়ামে বিক্রি। দোকানে ব্র্যান্ডের আচার কেজি ৳৩৭৫–৫২৫, আর মোড়কে বিক্রি করলে ঘরের রান্নাঘরেও ৳১,০০০-এর নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন লাগে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১
- শুরুর পুঁজি
- ৳২০,০০০ – ৳৯০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১৪ – ২৮ দিন সরকারি সূত্র
- খরচ উঠবে
- ৪ – ৮ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ঘরে বসে · সহজ
ব্যবসাটি কী
আম, জলপাই, বরই, তেঁতুল বা রসুন কেটে, রোদে শুকিয়ে, লবণ-মসলা-তেলে জারিয়ে বয়ামে ভরে বিক্রি করা। কাজটা ঘরের রান্নাঘরেই শুরু করা যায়, কিন্তু একটা কথা অনেকেই জানেন না — মোড়কে ভরে বিক্রি করলে ঘরের রান্নাঘরও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধনের আওতায় পড়ে। ১৬ জুলাই ২০২৬-এ গেজেট হওয়া নিয়ম অনুযায়ী মোড়কজাত খাদ্য উৎপাদকের নিবন্ধন লাগে — নতুন নিবন্ধন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর। এই ব্যবসার পুরো হিসাব ঠিক হয় আমের মৌসুমে। বছরের যে কয়টা মাস কাঁচা আম সস্তা, তখন যত কিনতে পারবেন সারা বছরের খরচ তত কম। মৌসুম চলে গেলে আর সস্তায় পাওয়া যায় না — ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় অনলাইনে কাঁচা আম ছিল কেজি ৳৪৯। তেলও বড় খরচ, কারণ তেলই আচার নষ্ট হতে দেয় না — একই দিনে সরিষার তেল ছিল লিটারে ৳২৮০–৩৮০। বিক্রির দিকটা দেখুন: দোকানে প্রাণ, রুচি বা আহমেদের ৪০০ গ্রামের আচার ৳১৫০–২১০, অর্থাৎ কেজি ধরে ৳৩৭৫–৫২৫। ঘরে বানানো ভালো আচার এর উপরে দাম পায়, কারণ ভালো আচারের ক্রেতা দাম নিয়ে কম দরকষাকষি করেন। কিন্তু বয়ামে ছত্রাক পড়লে একবারেই সব শেষ — নাম নষ্ট হলে ফেরানো কঠিন।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| বিষয় | পরিসর | সূত্র | সংশোধন দিন |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১৫,০০০ – ৳৬০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৩৭৫ – ৳৯৭৫ / কেজি | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২১০ – ৳৩৬০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৪৪% – ৬৩% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১৪ – ২৮ দিন | সরকারি সূত্র | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৪ – ৮ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৩০ – ১৮০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩% – ৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১০ – ৫০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- বড় পাত্র ও কড়াই, কাটার ছুরি-বঁটি, রোদে শুকানোর ট্রে বা চাটাই, কাচ বা পিইটি বয়াম, সিল ও লেবেল, আর ওজন মাপার দাঁড়িপাল্লা। এসবের ২০২৬ সালের দাম এই পাতায় যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
- লবণ ও মসলা, টিসিবির ১৫-০৯-২০২৬ দর: আয়োডিনযুক্ত লবণ প্যাকেট ৳৪০–৪২, দেশি হলুদ ৳৩২০–৩৫০, দেশি শুকনা মরিচ ৳৩২০–৩৮০, দেশি রসুন ৳১০০–১২০, দেশি আদা ৳১২০–১৪০, জিরা ৳৫৫০–৬৫০, ধনিয়া ৳২০০–২৫০ — সব প্রতি কেজি। সয়াবিন তেল খোলা লিটারে ৳১৮৬–১৯৫।প্রাথমিক মাল
- কাঁচামাল, ঢাকায় ১৬-০৯-২০২৬ তারিখের দর: কাঁচা আম কেজি ৳৪৯ (এমআরপি ৳৫৯), সরিষার তেল লিটার ৳২৮০–৩৮০ (প্রাণ ১ লিটার ৳৩৪০, ফ্রেশ ৳৩৩০, রাঁধুনী ৳৩৮০, টেক্কা ৫ লিটার ৳১,৪০০)।প্রাথমিক মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু। লাইসেন্সে খাদ্য উৎপাদনের কথা লেখা থাকতে হবে।লাইসেন্স
- টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন — জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে ফায়ার লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্রও খাদ্য ব্যবসার প্রক্রিয়ার অংশ। কাগজ প্রস্তুত থাকলে পুরো প্রক্রিয়ায় ২–৪ সপ্তাহ লাগে।লাইসেন্স
- বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ। আচার বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় আছে কি না তা এই গবেষণায় নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এই দুটি কাগজ না থাকায় খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে — তাই আবেদনের আগে বিএসটিআই থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।লাইসেন্স
- নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন — বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। খাদ্য নিরাপদতা (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা ২০২৬ (গেজেট ১৬ জুলাই ২০২৬) অনুযায়ী মোড়কজাত খাদ্য উৎপাদকের জন্য বাধ্যতামূলক — নতুন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর। ঘরের রান্নাঘরে বানিয়ে মোড়কে বিক্রি করলেও প্রযোজ্য।লাইসেন্স
- প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স — নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ৳১,০০০ থেকে ৳৫,০০০। বড় গুদামের ক্ষেত্রে ৳৪০,০০০ পর্যন্ত।লাইসেন্স
- লবণ, রোদ আর তেলের অনুপাত ঠিক রাখা — এই তিনটাই আচারকে নষ্ট হতে দেয় না। ভালো করে না শুকালে ছত্রাক পড়ে, আর তেল কম দিলে আচার টেকে না।দক্ষতা
- মৌসুমে কাঁচা আম বা জলপাইয়ের আড়ত, আর সারা বছরের জন্য মসলা ও তেলের পাইকারি দোকান। বয়াম ও লেবেলের সরবরাহকারীও আগেই ঠিক রাখা দরকার।সরবরাহকারী
- পরিষ্কার রান্নাঘর, পানি, ঢাকনাওয়ালা পাত্র আর রোদে শুকানোর জায়গা। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধনের সময় রান্নাঘর সরেজমিনে পরিদর্শন হয়।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কোন আচার বানাবেন ঠিক করুন — আম, জলপাই, বরই, তেঁতুল না রসুন। প্রতিটির কাঁচামালের মৌসুম আলাদা, তাই সিদ্ধান্তটাই আপনার বছরের কাজের সময়সূচি ঠিক করে দেয়।
- 2রান্নাঘর বা ঘরটা তৈরি করুন — পরিষ্কার মেঝে, পানি, ঢাকনাওয়ালা পাত্র আর রোদে শুকানোর জায়গা। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে রান্নাঘর দেখে তবেই নিবন্ধন দেয়।
- 3ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন আর ব্যবসার ধরন হিসেবে খাদ্য উৎপাদন লেখান। লাইসেন্সে যে ব্যবসার কথা লেখা থাকবে, শুধু সেটাই করা যাবে।
- 4নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে মোড়কজাত খাদ্য উৎপাদক হিসেবে নিবন্ধন নিন — নতুন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর। ঘরে বানালেও মোড়কে ভরে বিক্রি করলে এটা লাগবে।
- 5এনবিআর থেকে টিআইএন নিন আর ভ্যাট নিবন্ধন লাগবে কি না জেনে নিন। সুপারশপে মাল দিতে গেলে এসব কাগজ চাইবেই।
- 6বিএসটিআই-তে গিয়ে জেনে নিন আপনার পণ্যের জন্য সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ লাগবে কি না। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই ঢাকায় এই দুটো কাগজ না থাকায় খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
- 7মৌসুমে কাঁচামাল কিনুন, একসঙ্গে বেশি করে। সারা বছরের খরচ এই কেনাতেই ঠিক হয়ে যায় — মৌসুম পেরোলে ঢাকায় খুচরায় কাঁচা আম কেজি ৳৪৯ পর্যন্ত পড়ে।
- 8কেটে, লবণ মেখে ভালো করে রোদে শুকান। পানি থেকে গেলে আচারে ছত্রাক পড়ে, আর একটা বয়ামে ছত্রাক পড়লে ওই চালানের সব বয়ামই সন্দেহের মধ্যে পড়ে।
- 9মসলা ও তেলে জারিয়ে বয়ামে ভরুন। তেল যেন আচারের উপরে থাকে — তেলই আচারকে নষ্ট হতে দেয় না, তাই তেল কমিয়ে খরচ বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না।
- 10মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ, ওজন, উপাদান আর নিবন্ধন নম্বর লিখুন। মোড়কের তথ্য না থাকা বা ভুল থাকাই ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধরা পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- 11প্রতিটি ব্যাচের হিসাব খাতায় লিখুন — কবে বানানো, কত কেজি, কোন কাঁচামাল কার কাছ থেকে। অভিযোগ এলে এই খাতাই আপনাকে বাঁচাবে।
- 12দোকান আর অনলাইন — দুই দিকেই বেচুন। দোকানে প্রাণ, রুচি ও আহমেদের ৪০০ গ্রামের আচার ৳১৫০–২১০; আপনার দাম এর উপরে রাখতে হলে স্বাদ ও মোড়ক দুটোই আলাদা হতে হবে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিস্বাভাবিক
- মেবেশি
- জুনবেশি
- জুলাবেশি
- আগস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · দেশের দ্বিতীয় বড় ভোক্তা বাজার, সুপারশপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সংখ্যা বেশি।
- খুব উপযোগীঢাকা · সবচেয়ে বড় ক্রেতার বাজার আর অনলাইনে বিক্রির কেন্দ্র। ১৬-০৯-২০২৬ তারিখে এখানেই ৪০০ গ্রামের মোড়কজাত আচার ৳১৩৫ থেকে ৳৩৯০ পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে নিয়মও এখানেই সবচেয়ে কড়া — বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায় প্রতি সপ্তাহেই অভিযান চালায়।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · টঙ্গীসহ শিল্প এলাকায় খাদ্য উৎপাদনের ছোট কারখানা অনেক, আর বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত এখানে নিয়মিত অভিযান চালায় — টঙ্গীতে নকল ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদনের দায়ে এক প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে।
- সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি আর ঢাকার বাজার হাতের কাছে; ছোট উদ্যোগ থেকে ঢাকায় মাল পৌঁছানো সহজ ও সস্তা।
- সম্ভবনরসিংদী · খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ছোট ইউনিট আছে — বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত এখানে লাইসেন্সবিহীন ভোজ্যতেল উৎপাদনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
- জানা নেইচাঁপাইনবাবগঞ্জ · আমের জেলা হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এই গবেষণায় এখানকার কাঁচা আমের মৌসুমি পাইকারি দর বা সরবরাহের কোনো দলিল পাওয়া যায়নি।
- জানা নেইরাজশাহী · আমের এলাকা হিসেবে পরিচিত, তবে কাঁচা আমের মৌসুমি দর যাচাই করা যায়নি।
- জানা নেইসাতক্ষীরা · আগাম আমের এলাকা হিসেবে পরিচিত; মৌসুম আগে শুরু হলে আচারের কাঁচামাল আগে মেলে, তবে এখানকার দরের কোনো দলিল পাওয়া যায়নি।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: বছরের হিসাব মৌসুমেই ঠিক হয়ে যায়। কাঁচা আম সস্তায় পাওয়া যায় বছরের কয়েকটা মাস — তখন যত কিনতে পারবেন সারা বছরের খরচ তত কম। কিন্তু সেই কেনার পুরো টাকা একসঙ্গে লাগে, আর সেই আচার বিক্রি হয়ে টাকা ফিরতে কয়েক মাস যায়। মৌসুমে হাতে টাকা না থাকলে পরে চড়া দামে কিনতে হয় — মৌসুম পেরোলে ঢাকায় খুচরায় কাঁচা আম কেজি ৳৪৯ পর্যন্ত ওঠে।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: কাগজ না থাকলে জরিমানা হয়, আর ঘরে বানানো বলে ছাড় নেই। মোড়কজাত খাদ্য উৎপাদকের নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক (নতুন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর), এবং নিবন্ধনের আগে রান্নাঘর সরেজমিনে দেখা হয়। বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ না থাকায় খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার, ৩০ হাজার, ৫০ হাজার ও এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছে। একটা জরিমানাই ছোট উদ্যোগের কয়েক মাসের লাভ খেয়ে ফেলে।
- বেশিনষ্ট হওয়া: ভালো করে না শুকালে বা তেল কম দিলে বয়ামে ছত্রাক পড়ে। আচার নিজে দীর্ঘদিন টেকে বলেই ক্ষতিটা দেরিতে ধরা পড়ে — মাল দোকানে যাওয়ার পর, কখনো ক্রেতার ঘরে গিয়ে। তখন শুধু ওই বয়াম নয়, পুরো চালান ফেরত আসে আর দোকানি পরেরবার আর নিতে চান না। ছোট ব্র্যান্ডের জন্য এই একটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
- বেশিনির্ভরশীলতা: তেলের দাম। তেলই আচারের সংরক্ষক, তাই খরচ বাঁচাতে তেল কমানো যায় না। ১৬-০৯-২০২৬ তারিখে সরিষার তেল লিটারে ৳২৮০–৩৮০, আর টিসিবির হিসাবে এক বছরে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ। তেলের দাম বাড়লে খরচ সরাসরি বাড়ে, অথচ দোকানে লেখা দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো যায় না।
- মাঝারিচাহিদা: দোকানের তাকে বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে লড়তে হয়। ১৬-০৯-২০২৬ তারিখে ৪০০ গ্রামের কৌটায় খুশবু জলপাই ৳১৩৫, একমি ৳১৫০, আফি ৳১৭০, আহমেদ ৳১৮০, আর প্রাণ ও রুচি ৳২০০। নতুন উদ্যোক্তা এই দামে নামতে পারেন না, কারণ তাঁর উৎপাদন কম। তাই দাম উপরে রেখে স্বাদ ও মোড়কে আলাদা হতে হয় — শুধু সস্তায় বেচে এই বাজারে টেকা যায় না।
সূত্র
- সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬সমর্থন করে: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। প্রথম প্রশ্নটি আপনার হোক।
মিল আছে এমন ব্যবসা
মুড়ির কারখানা
চাল ভেজে মুড়ি বানিয়ে বিক্রি। এক কেজি চালে মুড়ি হয় ৯০০ গ্রাম, মোটা চাল ৳৫০–৫৫ কেজি — তাই মেশিনের মুড়িতে কেজিতে থাকে ৪–৬ টাকা, আর হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি পাইকারি ৳৯০ কেজি।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳২ লাখ
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
চায়ের দোকান ও ক্যাফে
এক কেজি চা পাতায় প্রায় ২৫০ কাপ; কাপ বিক্রি হয় ৳৫–৩০। ২০ হাজার টাকায় চুলা-সিলিন্ডার-কাপ আর সপ্তাহখানেকের মাল হয়, দোকানের জামানত বা ফ্রিজ হয় না।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
খেজুর ও আখের গুড়
শীতের তিন মাসে খেজুর বা আখের রস জ্বাল দিয়ে গুড় ও পাটালি বানিয়ে বিক্রি। যশোরে গুড় ৳৩৪০ কেজি, পাটালি ৳৫০০ পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় লড়াই দামের নয়, ভেজালের।
- পুঁজি
- ৳২৫ হাজার – ৳২ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ৪০ – ৬০ দিন
খই ও বাতাসা তৈরি
ধান ভেজে খই আর চিনি-গুড় জ্বাল দিয়ে বাতাসা-কদমা বানানো। চিনির পাইকারি ৳১০২–১০৩ কেজি, বাতাসা বিক্রি ৳১৯০–৩০০ কেজি। পুঁজি খুব কম, বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স লাগে না।
- পুঁজি
- ৳১৫ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ১০ – ৪০ দিন
